
দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, আগামী দুই বছর সময়টা বেশ ‘কঠিন’ যাবে। সোমবার (২২ জুন) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের সহযোগিতায় সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) কর্তৃক আয়োজিত এক বাজেট আলোচনায় তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে দুই বছর কষ্ট করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে তৃতীয় বছর থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে দেশ সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীলতায় ফেরার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি মনে করেন, পুঁজিবাজারের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দুই বছরের একটি সময়ের প্রয়োজন। একটি স্বাধীন, অরাজনৈতিক ও পেশাদার কমিশনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের আইনগুলো সংস্কার করা হচ্ছে যাতে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা এখানে বিনিয়োগে নিরাপদ বোধ করেন। ব্যবসা-বাণিজ্যের বাধা কমাতে অর্থমন্ত্রী ডিরেগুলেশন-এর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। এছাড়া বাজেট বক্তৃতায় আয়করের বর্তমান কাঠামো নিয়ে নিজের অস্বস্তির কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ৫ শতাংশের পুরনো স্ল্যাবটি সীমিত আয়ের মানুষের জন্য রাখা উচিত ছিল।
অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক মান বজায় রাখার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দিয়ে যাবে। যদিও অর্থনীতি বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কোনো দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি তিনি দিতে চাননি, তবুও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন, দেশের মানুষ এখন সত্যিকার অর্থে একটি মুক্ত ও উন্নত জীবনযাপন করতে চায়, আর সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।