
প্রতিরক্ষা শিল্প এবং বিরল খনিজ উত্তোলনের সাথে সম্পৃক্ত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সোমবার (২২ জুন) দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে [cite: প্রতিরক্ষা শিল্প ও বিরল খনিজ উত্তোলনের সাথে জড়িত ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর রফতানি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীন। সোমবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।]। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য সামরিক যানবাহন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘ওশকোশ ডিফেন্স’ (Oshkosh Defense)-এর নামও রয়েছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে এই রফতানি নিয়ন্ত্রণের কঠোর শর্তগুলো তুলে ধরা হয়েছে:
দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য নিষিদ্ধ: তালিকাভুক্ত ওই ১০টি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে চীনের কোনো ধরনের ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ (Dual-use) পণ্য রফতানি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তৃতীয় পক্ষের ওপর বিধিনিষেধ: শুধু সরাসরি রফতানি নয়, বিশ্বের অন্য কোনো দেশ বা অঞ্চলের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি চীন থেকে উৎপাদিত কোনো দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য সংগ্রহ করে, তবে তারাও সেই পণ্যটি ওই ১০ মার্কিন প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর বা সরবরাহ করতে পারবে না [cite: এক বিবৃতিতে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ‘উল্লিখিত ১০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য রফতানি করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের কোনো দেশ বা অঞ্চলের কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চীনে উৎপাদিত এমন দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পণ্য এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর বা সরবরাহ করতে পারবে না।’]।
চীনের এই পদক্ষেপকে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সামরিক প্রযুক্তি এবং বিরল খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য উত্তেজনার মাঝে এটি বেইজিংয়ের একটি কঠোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওশকোশ ডিফেন্সের মতো সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করার মাধ্যমে চীন সামরিক খাতের সাপ্লাই চেইনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের প্রভাব জাহির করার চেষ্টা করছে।