
ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের করিমপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় রিবুল হোসাইন নামে এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে [cite: ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের করিমপুর এলাকায় বাসের ধাক্কায় ময়না ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব রিবুল হোসাইন নিহত হয়েছেন।]। সোমবার (২২ জুন) সকাল পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার করিমপুরের চাঁনপুর রাস্তার মোড় এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। রিবুল হোসাইন বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন ছবিবের ছেলে [cite: নিহত রিবুল হোসাইন বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন ছবিবের ছেলে।]। তিনি পূর্বে ময়না ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং বর্তমানে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এই দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়ার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায়, তবে বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী অল্পের জন্য অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে রিবুল হোসাইন মোটরসাইকেলযোগে বোয়ালমারীর নিজ বাড়ি থেকে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। পথিমধ্যে চাঁনপুর রাস্তার মোড় এলাকায় পৌঁছালে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘খান পরিবহণ’-এর একটি দ্রুতগতির বাস পেছন দিক থেকে তাঁর মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় তিনি মহাসড়কের ওপর ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান।
একই সময়ে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে বাসটি সজোরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত রিবুল হোসাইনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, খান পরিবহণের বাসটি পেছন থেকে মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিলে ওই সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যু হয় [cite: ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, খান পরিবহণের বাসটি পেছন থেকে মোটরসাইকেল আরোহীকে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।]। বাসে থাকা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার পরও বড় ধরনের কোনো আঘাত বা দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। ঘাতক বাস ও চালকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া সচল রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রিবুল হোসাইনের এই অকাল ও আকস্মিক প্রয়াণে ফরিদপুরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাঁর গ্রামের বাড়িতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শোক প্রকাশ করে ময়না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল হক মৃধা জানান, রিবুল হোসাইন অত্যন্ত দক্ষ ও নিষ্ঠাবান একজন সচিব ছিলেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হলো। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।