
ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংঘাত ও যুদ্ধ পরিচালনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে দেশটির জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে [cite: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন বলে মনে করেন ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ইসরাইলি। তাদের ধারণা নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার ভূমিকা ভালোভাবে পালন করতে পারেননি।]। হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেমের এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি অর্থাৎ ৫৬.৪ শতাংশ ইসরাইলি নাগরিক মনে করেন ইরান যুদ্ধে নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ ‘ব্যর্থ’ হয়েছেন [cite: জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্স ‘ব্যর্থ’ বা ‘খারাপ’ ছিল।]। এই সংঘাতের ফলে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে এবং দেশটিতে নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে বলে জরিপের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হয়েছে [cite: আর ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ মনে করেন এই সংঘাত ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে।, নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তাও কমেছে।]।
গত ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে ৩ হাজার ৬৪৪ জন ইসরাইলি নাগরিকের ওপর এই জরিপটি পরিচালনা করে হিব্রু ইউনিভার্সিটি অব জেরুজালেম। জরিপের ফলাফলে যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলিদের নেতিবাচক মনোভাবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে:
নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্স: ৫৬.৪ শতাংশ মানুষ যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকাকে ‘ব্যর্থ’ বা ‘খারাপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, বিপরীতে মাত্র ২৬.৫ শতাংশ মানুষ তাঁকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন [cite: জরিপ অনুযায়ী, ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুদ্ধ চলাকালে নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্স ‘ব্যর্থ’ বা ‘খারাপ’ ছিল। আর মাত্র ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ তাকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।]।
সাফল্যের দাবি প্রত্যাখ্যান: ৭২.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নেতানিয়াহুর এই দাবির সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করেছেন যে ইসরাইল ‘উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে’ এবং ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করতে পেরেছে [cite: এ ছাড়া ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী নেতানিয়াহুর এই দাবির সঙ্গে একমত নন যে, ইসরাইল ‘উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে’ এবং একটি ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করেছে।]।
ইরানের জয়: চমকপ্রদভাবে ৯২.১ শতাংশ মানুষ মনে করেন এই যুদ্ধে মূলত ইরানই জয়ী হয়েছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি: ৮২.৯ শতাংশ ইসরাইলির ধারণা, এই সংঘাতের কারণে ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগের চেয়ে দুর্বল হয়ে পড়েছে [cite: আর ৮২ দশমিক ৯ শতাংশ মনে করেন এই সংঘাত ইসরাইলের দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তাকে দুর্বল করেছে।]।
লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতা: ৮৭.৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন ইসরাইল তাদের ঘোষিত যুদ্ধকালীন লক্ষ্যগুলো হয় পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, অথবা কেবল আংশিকভাবে সফল হয়েছে [cite: এতে আরও বলা হয়, ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন ইসরাইল তাদের ঘোষিত লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি, অথবা আংশিকভাবে সফল হয়েছে।]।
এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক জনপ্রিয়তার ওপরও। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসেও যেখানে ৪০.৫ শতাংশ মানুষ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুকে সমর্থন করেছিলেন, জুন মাসে এসে সেই সমর্থনের হার নাটকীয়ভাবে কমে মাত্র ২৯.৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
তবে এর মধ্যেই দেশের প্রায় ৪৮.২ শতাংশ মানুষ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন [cite: অন্যদিকে, ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পক্ষে মত দিয়েছেন]। হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে এই অভিযান চালাতে গিয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকিও তৈরি হয়, তবুও তাঁরা এই সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে। মাত্র ২০.৯ শতাংশ মানুষ এই নতুন অভিযানের বিরোধিতা করেছেন এবং বাকিরা কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে একটি যুদ্ধ শুরু করেছিল ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে দীর্ঘ সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। সংঘাতের চূড়ান্ত অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে গত বুধবার তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে [cite: এরপর বুধবার তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়, যা সংঘাত শেষ করার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।]। এই সমঝোতার মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব দিক থেকে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটানো, লেবাননসহ অন্যান্য ফ্রন্টগুলোতে উত্তেজনা কমিয়ে আনা, অবরুদ্ধ হয়ে থাকা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর মার্কিন প্রশাসনের আরোপিত নৌ অবরোধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া [cite: এই সমঝোতায় সব দিক থেকে সংঘাত বন্ধ করা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে উত্তেজনা কমানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলা এবং ইরানের ওপর আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।]।