
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন বিরোধীদল ও স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর দিকে বাঁকা চোখে তাকালে কিংবা তাঁদের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন চালানো হলে তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় কুমারখালীর ডাকবাংলোয় আয়োজিত উপজেলা ও পৌর বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফরিদা ইয়াসমিন বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বর্তমান সরকার আমলে তারা সুখে-শান্তিতে ঘরে ঘুমাতে পারছে, এটাই তাদের জন্য অনেক বেশি।
মতবিনিময় সভায় এমপি ফরিদা ইয়াসমিন তাঁর বক্তব্যে প্রশাসন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু কড়া বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
বিরোধীদলের প্রতি বার্তা: অতীতে নিজেরা রাজনীতি করার সুযোগ পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধীদল এখন সুখে-শান্তিতে পরিবার নিয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছে। তাই তারা যেন কোনোভাবেই বিএনপির নেতাকর্মীদের দিকে বাঁকা চোখে তাকানোর বা মাথায় ওঠার চেষ্টা না করে।
প্রশাসনের প্রতি আলটিমেটাম: কুমারখালী-খোকসাতে চাকরি করতে হলে প্রশাসনকে অবশ্যই বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। প্রশাসনকে কারও পক্ষ নিয়ে কাজ করতে বলা হচ্ছে না, তবে বিএনপির ওপর কোনো নির্যাতন বা ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।
বদলি ও অ্যাকশনের হুমকি: কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তা যদি নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন বা অবহেলা করার সাহস দেখান, তবে তাঁকে সেই এলাকায় রাখা হবে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে আইনি অ্যাকশন নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্তব্য: বিগত ২০ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা বঞ্চিত ও নির্যাতিত হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা ব্যান থাকার পরেও প্রশাসন কেন তাদের মাথায় তুলে নাচবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাতিল মাহমুদের সুনিপুণ সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে ফরিদা ইয়াসমিনের পাশাপাশি কুষ্টিয়া জেলা ও স্থানীয় বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ নওয়াব আলী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জিলাল, কুমারখালী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ তরিকুল ইসলাম লিপন এবং পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আলম টমে। এ ছাড়া কুমারখালী উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এই সভায় অংশ নেন।