
দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের একদম দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিশাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ধাত্রীবিদ্যায় দক্ষ আরও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ (ধাত্রী) পর্যায়ক্রমে নিয়োগ দেওয়া হবে। রোববার পর্তুগালের লিসবন সফর শেষে দেশে ফিরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
বিপুলসংখ্যক মিডওয়াইফ নিয়োগের আগে মাঠপর্যায়ে সেবার মান নিশ্চিত করতে তাদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নে সরকার এরইমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এই এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধক বা প্রিভেন্টিভ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
সরকারের এই মহাপরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের মায়েদের নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা। ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হলো কোনো মায়ের যখন স্বাভাবিক ডেলিভারি হবে, তখন তাঁকে যেন সহজেই একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে সেবা দেওয়া যায়। এই লক্ষ্যে দেশের প্রত্যেকটা ইউনিয়নে এবং শহরের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে একটি করে 'প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিট' বা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। স্বাভাবিক ডেলিভারি বা প্রসবের কাজগুলো মূলত এই কেন্দ্রগুলোতেই সম্পন্ন করা হবে। আর এই চিকিৎসাসেবা সার্বক্ষণিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রতিটি প্রাইমারি হেলথকেয়ার ইউনিটে অন্তত দুজন করে দক্ষ মিডওয়াইফ বা ধাত্রী কর্তব্যরত থাকবেন।