
হাইতি ম্যাচে জয় নিয়ে বিশ্বকাপে সুবিধাজনক ও স্বস্তির অবস্থানে চলে এসেছে ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ঠিক এই সময়ে এসে আগামীতে স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে সেলেসাও শিবিরে এসেছে এক বড় সুসংবাদ। দলের তারকা উইঙ্গার রাফিনিয়াকে নিয়ে তৈরি হওয়া চোটের শঙ্কা কেটে গেছে। হাইতির বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হলেও আপাতত তাঁকে নিয়ে বড় কোনো শঙ্কা দেখা যাচ্ছে না, যা কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং সমর্থকদের মনে স্বস্তি ফিরিয়েছে।
শুক্রবার হাইতির বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন ডান উরুতে চোট পান রাফিনিয়া। প্রথমার্ধে পেছনের পেশিতে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে ব্রাজিল শিবিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়। তাঁর চোটের প্রকৃত অবস্থা জানতে শনিবার সকালে একটি মেডিকেল পরীক্ষাও করা হয়। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসার খুঁটিনাটি না জানালেও প্রাথমিক তথ্যগুলো বেশ আশাব্যঞ্জক। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গাজেতা এস্পোর্তিভার তথ্য অনুযায়ী, রাফিনিয়াকে জাতীয় দলের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হবে না বলেই জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।
এই চোটের বিষয়টি ব্রাজিল দলের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ সম্প্রতি একই ধরনের সমস্যায় বেশ কয়েকবার ভুগেছেন রাফিনিয়া। ২৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার গত মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতেও উরুর চোটের কারণে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং গত মৌসুমেও একই স্থানে চারবার চোটের মুখে পড়েন। তবে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের পর কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখা গেছে। মাঠ ছাড়ার সময় তাঁকে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে দেখা যায় এবং পরে বদলি বেঞ্চে বসেই তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাথমিক সেবা নেন, যা দ্রুত সুস্থ হয়ে ফেরার আশা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বকাপের কঠোর নিয়মের কারণে রাফিনিয়ার দ্রুত ফিট হয়ে ওঠা ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত জরুরি। যদি তিনি কোনো কারণে টুর্নামেন্টের বাকি অংশ থেকে ছিটকে যান, তবে ব্রাজিল নতুন কোনো খেলোয়াড়কে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে না। কারণ মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগেই স্কোয়াড পরিবর্তনের শেষ সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে। গ্রুপ পর্ব শুরু হওয়ার পর গোলরক্ষক ছাড়া অন্য কোনো পজিশনের খেলোয়াড়ের পরিবর্তে নতুন কাউকে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আগামী নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে রাফিনিয়াকে পুরোপুরি সুস্থ করে তোলার দিকেই এখন বিশেষ নজর দিচ্ছে ব্রাজিল দলের চিকিৎসক দল।