
চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে একের পর এক ভাঙছে পুরোনো ইতিহাস, তৈরি হচ্ছে নতুন সব অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। টুর্নামেন্টের নবম দিনে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম দল হিসেবে তাদের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে লাতিন পরাশক্তি ব্রাজিল. এই জয়ের মাধ্যমে জার্মানিকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি নিজেদের দখলে নিয়েছে সেলেসাওরা. অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার পর নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র. এছাড়া স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে ব্রাজিলের সঙ্গী হয়েছে আফ্রিকান পরাশক্তি মরক্কো.
হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের বড় জয়টি দলটিকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে. হাইতির বিরুদ্ধে ৩টি গোল করার মাধ্যমে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪১টিতে. এর ফলে তারা জার্মানির ২৩৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করল. এই ম্যাচে অনূর্ধ্ব-২০ বয়সী দুই তরুণ তারকা রায়ান ও এন্ড্রিক একসঙ্গে মাঠে নামেন. ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে পেলে ও আলতাফিনির পর এই প্রথম একই বিশ্বকাপ ম্যাচে অনূর্ধ্ব-২০ বয়সী দুই ফুটবলারকে একসঙ্গে খেলানো হলো. রায়ান ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে খেলা ষষ্ঠ কনিষ্ঠ এবং এন্ড্রিক কনিষ্ঠতমের তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছেন. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড মাথেউস কুনিয়া ২০১৪ সালে নেইমারের পর প্রথম ব্রাজিলীয় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করার কীর্তি গড়েন, যেখানে ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর আগের ২৪ ম্যাচে ছিল মাত্র ১টি গোল. এছাড়া নেইমারের পর ১২তম ব্রাজিলীয় হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই গোল করার রেকর্ড গড়লেন ভিনিসিউস জুনিয়র. তবে পুরো দ্বিতীয় হাফে ব্রাজিল মাত্র ২টি শট নিতে পেরেছিল, যা ১৯৬৬ সালের পর যেকোনো বিশ্বকাপের এক অর্ধে তাদের নেওয়া সর্বনিম্ন শটের রেকর্ড.
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্কিন দলটি নিজেদের ফুটবল ইতিহাস নতুন করে লিখেছে. তারা ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে টানা দুটি ম্যাচ জয়ের কৃতিত্ব দেখাল. নিজেদের শেষ ৪টি বিশ্বকাপের সবকটিতেই নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পাশাপাশি ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলো তারা. সাবেক এনএফএল তারকা আন্তোনিও ফ্রিম্যানের ছেলে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান ২১ বছর ৩১৪ দিন বয়সে গোল করে ২০১৪ সালে জুলিয়ান গ্রিনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতা হয়েছেন. ১৯৫০ সালের পর মাউরিসিও পচেত্তিনো হলেন ইউএসএমএনটি-র তৃতীয় বিদেশী কোচ, যাঁর অধীনে প্রতিবারই দলটি নকআউটে পৌঁছাল.
স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বের সুবাস পাচ্ছে আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো. স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে মরক্কো মোট ৬০১টি পাস সম্পন্ন করেছে, যা ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেকোনো আফ্রিকান দলের পক্ষে সর্বোচ্চ পাসের রেকর্ড. ম্যাচের মাত্র ৭১ সেকেন্ডে গোল করেন ইসমায়েল সাইবারি, যা ২০০৬ সালে আসামোয়াহ গিয়ানের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো আফ্রিকান খেলোয়াড়ের দ্বিতীয় দ্রুততম গোল. এছাড়া মোহাম্মদ সালাহ-র পর দ্বিতীয় আফ্রিকান হিসেবে নিজের প্রথম দুই বিশ্বকাপ ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়লেন তিনি. গ্রুপ পর্বে টানা ৬ ম্যাচে অপরাজিত থেকে আফ্রিকার কোনো দেশের পক্ষে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড এককভাবে নিজেদের করে নিল মরক্কো. অন্যদিকে পুরো ম্যাচে স্কটল্যান্ড গোলপোস্টে একটিও অন-টাগের্ট শট নিতে পারেনি, যা ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপে তাদের প্রথম এমন লজ্জাজনক রেকর্ড.
গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছে প্যারাগুয়ে. ম্যাচ শুরুর মাত্র ১ মিনিট ৪ সেকেন্ডে গোল করে ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়েন মাতিয়াস গালার্জা. এই গোলটি আমেরিকার এমএলএস (MLS) লিগে খেলা কোনো ফুটবলারের পক্ষে চলতি বিশ্বকাপে পঞ্চম গোল, যা ২০০২ সালের রেকর্ডের সমান. অন্যদিকে পুরো বিশ্বকাপে কোনো গোল না করেই মোট ৬২টি শট নিয়েছে তুরস্ক. ১৯৬৬ সালের পর গোল ছাড়া কোনো দলের পক্ষে এটিই সর্বোচ্চ শট নেওয়ার রেকর্ড, যা ২০০২ সালে ফ্রান্সের করা ৫৭টি শটের রেকর্ডকে ভেঙে দিল. এই ম্যাচেই প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন মুখ ঢেকে কথা বলার অপরাধে নতুন নিয়মের আওতায় লাল কার্ড দেখা প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান.