
ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত ও সামরিক অংশীদারিত্বের পরিধি আরও বাড়াতে যৌথ উদ্যোগে এবার ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্রের ছোট এবং অত্যাধুনিক হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ এই নতুন ও মেগা উদ্যোগের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান যে, ব্রহ্মসের এই নতুন আধুনিক সংস্করণ দুটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী ও নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী করবে। বুধবার (১৭ জুন) বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রুশ রাষ্ট্রদূত দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের এই নতুন মাইলফলকের কথা তুলে ধরেন।
রুশ রাষ্ট্রদূত আলিপভের মতে, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সম্ভাবনা অপরিসীম এবং এটি ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক সামরিক অঙ্গনে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিবর্তন ও সাফল্যের মূল দিকগুলো হলো:
দীর্ঘ পথ পরিক্রমা: স্থলভাগ থেকে শুরু করে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং আকাশপথে যুদ্ধবিমান থেকে সফল উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে।
কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ত্রিভুজ: ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক পরীক্ষার পর ভারত সফলভাবে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এক শক্তিশালী ত্রিভুজ বা 'ট্রায়াড' তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
প্রিসিশন স্ট্রাইক সিস্টেম: এই ক্রুজ মিসাইল ট্রায়াডটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রিসিশন স্ট্রাইক সিস্টেমের মর্যাদা পেয়েছে।
ব্রহ্মস যৌথ উদ্যোগটি ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রকল্পটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে—প্রথাগত ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে দুই দেশ এখন প্রযুক্তি শেয়ারিং, যৌথ উন্নয়ন এবং যৌথ উৎপাদনের পথে হাঁটছে। রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন যে, পরবর্তীতে ব্রহ্মসের এই যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদন ব্যবস্থার সফল ধারণাটিই ভারতের নিজস্ব ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ব্রহ্মস প্রকল্পের ঐতিহাসিক মোড় ঘোরানো সাফল্যের পথ ধরেই ভারতে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাংক এবং সম্প্রতি একে-২০৩ রাইফেল তৈরির মতো বড় বড় সামরিক প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, সুখোই-৫৭ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন এই সফল যাত্রাকে আরও এগিয়ে নেবে, যা দুই দেশের গভীর আস্থা ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের অনন্য প্রতিফলন।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে এশিয়া-প্যাসিফিক, পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাষ্ট্রদূত আলিপভ এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে ‘অপারেশন সিন্দূর’-এর কথা উল্লেখ করেন, যেখানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তার অসাধারণ দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।