
সমতল ও পাহাড়ে বসবাসকারী সকল ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার সমুন্নত রাখার পাশাপাশি তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার. এর অংশ হিসেবে দেশের অতি ক্ষুদ্র দুই নৃগোষ্ঠী ওঁরাও ও মাহাতো জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাস্তবায়িত হবে. এই লক্ষ্য অর্জনে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে. গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক এই দুই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চরম দারিদ্র্য ও আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে বিশেষ ভাতার প্রস্তাব করেন. তিনি উল্লেখ করেন, দারিদ্র্যসীমা থেকে উত্তরণ না ঘটলে এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি থেকে বংশানুক্রমিকভাবে বঞ্চিত থাকবে. সরকার এই প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত প্রতিবেদন আকারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে.
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মাঠ পর্যায় থেকে প্রাপ্ত ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ৬টি সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫টি অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও ইপিজেড সংক্রান্ত এবং অন্যটি এই দুই জনগোষ্ঠীর বিশেষ ভাতা প্রদান বিষয়ক. এই সিদ্ধান্তগুলো স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়ন করা হবে. ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ওঁরাও জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৮৫,৮৪৬ জন (মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৫.২০ শতাংশ) এবং মাহাতো জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১৯,২৭১ জন (মোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ১.১৭ শতাংশ). এর আগে গত আগস্টে ময়মনসিংহে আয়োজিত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘রেইনবো নেশন’ বা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিলেন. সেই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদ ও দলীয় কমিটিতে ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর যোগ্য প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং ট্রাইব্যুনাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনকে ট্রাস্ট হিসেবে মর্যাদা প্রদানসহ নানামুখী কল্যাণকর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার.