
দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিষয়ে একটি ঐতিহাসিক ও দ্বিপাক্ষিক কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান. এই শান্তি আলোচনায় অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, দুপক্ষের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে এই কাঙ্ক্ষিত সমঝোতাটি অর্জিত হয়েছে. এই ঘোষণার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা দেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে’. একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পথ সুগম করতে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ টোলমুক্তভাবে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার এবং মার্কিন নৌবাহিনীর আরোপিত সমস্ত অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করার নির্দেশ জারি করেছেন. ট্রাম্প আরও দাবি করেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে দেশটির বন্দরগুলোয় মার্কিন নৌ অবরোধ আরোপের কঠোর নীতির কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের পুরো পরিস্থিতি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুকূলে বদলে গেছে.
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে. তবে তিনি এই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন যে, ইরান যদি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তিনি আবারও দেশটির ওপর সামরিক হামলা শুরু করতে পারেন. খসড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতার আওতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সমস্ত সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে. এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আটকে রাখা ২৫ বিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ ছেড়ে দেবে এবং এর বিনিময়ে ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক স্থাপনা সম্প্রসারণ না করার শর্তে সম্পূর্ণ সম্মত হয়েছে. যদিও ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে একে ‘ইরানের এক বড় বিজয়’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে. আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে.