
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ ঘরে মা ও মেয়েকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া ওরফে তেজু বড়ুয়াকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে জেলা পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারের পর প্রধান অভিযুক্ত তেজুকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর আগে শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে আনোয়ারা উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই বর্বর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ওই এলাকার সুজন বড়ুয়ার স্ত্রী এনি বড়ুয়া (৪০) ও তাঁর এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। দুর্বৃত্তদের এই বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর জখম হয় পরিবারের মাত্র পাঁচ বছর বয়সী শিশু পিয়াস বড়ুয়া, যাকে বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া তাঁর কর্মস্থলে অবস্থান করছিলেন। সেই সুযোগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়। এই জোড়া খুনের ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্ত রিমন বড়ুয়া এলাকা ছেড়ে পলাতক ছিল। নিহত এনি বড়ুয়ার স্বামী সুজন বড়ুয়ার দাবি, গ্রেফতারকৃত রিমন বড়ুয়ার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গভীর বিরোধ ছিল, যার জের ধরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে পুলিশও এই আর্থিক বিরোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। ঘটনার পর পর পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত তেজু বড়ুয়াকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিকতা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই ডাবল মার্ডারের প্রকৃত কারণ ও এর নেপথ্যে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে।