
দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের সুনির্দিষ্ট মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার (১২ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে একটি অফিশিয়াল ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল (Interpol) সাবেক এই বিতর্কিত আইজিপির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করেছিল, যার ওপর ভিত্তি করেই দুবাইয়ের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে তাঁকে হেফাজতে নেয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতে হাজির করার লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দফতর ইতিমধ্যেই যৌথভাবে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
একই সংসদীয় বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান নিখোঁজের ঘটনারও একটি চাঞ্চল্যকর ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, জিসান নিখোঁজের দায় সরকারের ওপর চাপানোর একটি অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে নিখোঁজের এক সুপরিকল্পিত নাটক সাজিয়েছে। এছাড়া, দুর্নীতিগ্রস্ত সাবেক আইজিপির দেশে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দুবাইয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়া বেনজীর আহমেদকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।