
চলমান ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মাঠে নেমেই এক অদ্ভুত ও অভাবনীয় কৌশল বেছে নিয়েছিল মরক্কো ফুটবল দল। ম্যাচের রেফরির কিক-অফের বাঁশি বাজার ঠিক পরপরই কোনো তাড়াহুড়ো না করে বলটি ইচ্ছা করে সাইডলাইনের বাইরে পাঠিয়ে দেয় উত্তর আফ্রিকার দেশটি। প্রথমার্ধের শুরুতে দর্শকদের কাছে এটিকে সাধারণ কোনো ভুল মনে হলেও, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল সেলেসাওদের আটকে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ও আধুনিক ফুটবলীয় কৌশল যা ইউরোপিয়ান ফুটবলের শীর্ষ ক্লাব পিএসজি (PSG) এবং আর্সেনাল মাঝেমধ্যেই প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ব্যবহার করে থাকে। এই কৌশলের মূল দর্শন হলো, ম্যাচের একেবারে প্রথম সেকেন্ডেই প্রতিপক্ষকে বলের পজেশন দিয়ে দেওয়া এবং এরপর পুরো দল মিলে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছাকাছি গিয়ে ‘হাই প্রেস’ বা তীব্র চাপ সৃষ্টি করা। যে দলগুলো ট্যাকটিকালি ভালো প্রেসিং করতে পারে এবং হাই ডিফেন্স লাইনে খেলতে অভ্যস্ত, তারা প্রতিপক্ষকে নিজেদের অর্ধে পাসের বিনিময় করতে বাধ্য করার জন্য এই ফাঁদ পেতে থাকে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্রুপো গ্লোবোর খ্যাতনামা ফুটবল ধারাভাষ্যকার রদ্রিগো কুতিনিও মরক্কোর এই অদ্ভুত কৌশলের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘এটি আসলে টাইট ডিফেন্সের বিপক্ষে সহজে গোল করার সুযোগ তৈরির একটি আধুনিক চেষ্টা। যদি আপনি শুরু থেকেই বল পায়ে রেখে আক্রমণ সাজাতে চান, তবে প্রতিপক্ষের ১০ জন ডিফেন্ডার ও গোলকিপার মিলে ২৫-৩০ মিটারের মধ্যে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরি করে ফেলে, যা ভাঙা কঠিন। কিন্তু আপনি যদি স্বেচ্ছায় বল প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়ে কাউন্টার-প্রেসিং শুরু করেন, তবে ফাঁকা জায়গায় প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করে দ্রুত বল কেড়ে নিয়ে গোল করা সম্ভব।’ তবে পিএসজির এই ধার করা মাস্টারপ্ল্যান ব্রাজিলের বিপক্ষে পুরোপুরি সফল হতে পারেনি। কারণ মরক্কোর খেলোয়াড়েরা পজিশন নেওয়ার আগেই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার রজার ইবানেজ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে থ্রো-ইন নিয়ে নেন এবং অভিজ্ঞ মার্কিনিওস বলটি পাস দিয়ে সামনে বাড়িয়ে দিলে মরক্কোর এই প্রেসিং ফাঁদ এড়িয়ে সহজেই বল ক্লিয়ার করে ফেলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা।