
বরগুনা জেলাজুড়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থান থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা নিয়ে স্থানীয় জনমনে চরম রহস্য, সমালোচনা ও তীব্র পৈশাচিক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর অপমৃত্যু ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১২ জুন) বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে। সেখানে ‘কালু বাহিনী’র প্রধান, চিহ্নিত মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামি ইব্রাহিম হোসেন কালু জেল থেকে জামিনে বের হয়েই স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত গ্রামবাসী একজোট হয়ে কালুকে ধাওয়া করে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শনিবার (১৩ জুন) সকালে পাথরঘাটা পৌরসভার একটি সড়কের পাশ থেকে মিজানুর রহমান (৪০) নামে এক রিকশাচালকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ, যাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তারের দাবি জমিজমা সংক্রান্ত পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যান্য ঘটনাগুলোর মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে স্বামীর পরকীয়া ও দ্বিতীয় বিয়ের জেরে এক গৃহবধূর রহস্যজনক ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে; মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেলেও নিহতের বোন একে সুকৌশলী হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। একই দিন সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের নলী এলাকা থেকে সালেহা বেগম (৯৩) নামের এক বৃদ্ধার লাশ এবং বামনা উপজেলায় চাচার বাসা থেকে আবীর (১৭) নামের এক কলেজছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। জেলাজুড়ে এমন থমথমে পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা জানান, গত কয়েকদিনের প্রতিটি ঘটনাকে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে ও প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে জেলা পুলিশ, ডিবি, সিআইডি এবং র্যাবের সদস্যরা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছেন। প্রাথমিকভাবে যেগুলো আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে, তার পেছনে কোনো প্ররোচনা বা হত্যাকাণ্ডের মোটিভ আছে কি না তা-ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে জেলায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সম্পূর্ণ তৎপর রয়েছে বলে তিনি সাধারণ জনগণকে আশ্বস্ত করেছেন।