
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) খেলা শেষে ঢাকা থেকে বিমানযোগে নিজ শহর চট্টগ্রামে ফেরার পথে জাতীয় টেস্ট দলের তারকা অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি (গোয়েন্দা পুলিশ) পরিচয়ে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নবনিযুক্ত সভাপতি তামিম ইকবাল। শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে ঘটে যাওয়া এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তামিম ইকবাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নাঈম হাসানের সঙ্গে গত রাতে যা হয়েছে, কোনোভাবেই তা গ্রহণযোগ্য নয়।’ জাতীয় দলের সাবেক এই সফল অধিনায়ক জানান, ঘটনার পরপরই রাতে নাঈম তাঁকে ফোন করার পর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিসিবির অন্য পরিচালকদের সাথে নিয়ে যা যা করা প্রয়োজন, সবকিছুর চেষ্টা তিনি করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সব জায়গায় এ নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। একই সাথে বিসিবি সভাপতি হিসেবে তিনি ভুক্তভোগী ক্রিকেটার ও তাঁর পরিবারের পাশে থাকার এবং তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে এভাবে অন্যায়ভাবে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে লাঠি ও পাইপ দিয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং পরবর্তীতে থানায় নিয়ে মানসিক হেনস্তার ঘটনায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিসিবির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আজ শনিবার সকালে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও আনুষ্ঠানিক নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তামিম ইকবাল তাঁর বিবৃতিতে আরও যুক্ত করেন যে, কেবল নিন্দাই নয়, বরং এই অন্যায়ের বিচার নিশ্চিতে এরপর বিসিবির পক্ষ থেকে আরও যা যা করণীয় আছে, তার সবকিছুই করা হবে এবং দেশের সব ক্রিকেটারের পাশে বোর্ড সবসময় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে। উল্লেখ্য, ক্রিকেটারকে নির্যাতনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রাথমিক ব্যবস্থা হিসেবে চট্টগ্রামের খুলশী থানার অভিযুক্ত এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিন পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ৩ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।