
চলতি জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশে ধেয়ে আসছে বছরের প্রথম শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি বর্ষাকালীন বৃষ্টিবলয়। বেসরকারি আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থা ‘বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম’ (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, আগামী ১৮ বা ১৯ জুন থেকে এই বৃষ্টিবলয়টি দেশজুড়ে সক্রিয় হতে পারে, যা পর্যায়ক্রমে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থাৎ টানা অন্তত ১২ দিন স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই বিশেষ আবহাওয়াজনিত বলয়ের প্রভাবে দেশের চার বিভাগ— রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রামের অধিকাংশ জেলায় মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। তবে এটি মূলত বর্ষাকালীন সাধারণ বৃষ্টিবলয় হওয়ায় অন্যান্য ঝড়ের তুলনায় এতে তীব্র গতিসম্পন্ন ঝড়ো হাওয়া কিংবা বজ্রপাতের প্রকোপ অনেকটাই কম থাকবে। কেবল বাতাসের দিক পরিবর্তন ও স্বাভাবিক দমকা হাওয়ার কারণে কিছু কিছু স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে বজ্রপাত হতে পারে।
এদিকে সরকারের আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের একটি বর্ধিতাংশ বর্তমানে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে দেশের ওপর মৌসুমী বায়ু মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরের অবশিষ্টাংশে দুর্বল থেকে মাঝারি অবস্থায় বিরাজ করছে। এই বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতির কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও আগামী কয়েকদিন সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।