
ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত জোরপূর্বক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দখলে নেওয়ার একটি অত্যন্ত গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ মার্কিন পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের (CNN) এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ব্রাসেলসে ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক মাঝপথে ফেলে জরুরি ভিত্তিতে ফ্লোরিডায় অবস্থিত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) সদর দপ্তরে যান। সেখানে তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সম্ভাব্য স্থল অভিযানের নকশা ও কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি ব্রিফিং নেন। উচ্চপর্যায়ের এই তৎপরতা থেকে স্পষ্ট যে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল।
তবে জেনারেল কেইন সম্ভাব্য সামরিক বিকল্পগুলো হোয়াইট হাউজে পেশ করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিকল্পনাটি স্থগিত বা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সামরিক ও গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে, এই ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান একটি ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ ডেকে আনার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারকে চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে। এছাড়া এই অভিযানে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহতের প্রবল আশঙ্কাও ছিল। মজার বিষয় হলো, মার্কিন সামরিক বাহিনী যখন পর্দার আড়ালে এই হামলার ছক কষছিল, ঠিক সেই সময়েও ডোনাল্ড ট্রাম্প জনসমক্ষে দাবি করে আসছিলেন যে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সাথে ওয়াশিংটন একটি ঐতিহাসিক সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।