
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের ‘হেক্সা’ বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে লাতিন আমেরিকার পরাশক্তি ব্রাজিল। গ্রুপ ‘সি’-এর এই হাইভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচে শনিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট ও আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো। গ্রুপ পর্বের বাকি দুই প্রতিপক্ষ হাইতি ও স্কটল্যান্ড হওয়ায়, এই ম্যাচটি মূলত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে অলিখিত ফাইনাল হিসেবে রূপ নিয়েছে। কেননা এই গ্রুপে রানার্স-আপ হওয়া দলকে নকআউট পর্বের শুরুতেই ফ্রান্স বা স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের মুখোমুখি হতে হবে। বিশ্বমঞ্চে দুই দলের পূর্বের একমাত্র দেখায় (১৯৯৮ বিশ্বকাপ) ব্রাজিল ৩-০ গোলে জিতলেও, ২০২৩ সালের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মরক্কো ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল। তাই কার্লো আনচেলত্তির শীর্ষ দলটির জন্য প্রথম ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না।
ইনজুরি জর্জরিত ব্রাজিল দলে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে মহাতারকা নেইমার জুনিয়রের কাফ ইনজুরির মাধ্যমে, যার কারণে উদ্বোধনী ম্যাচে তিনি মাঠের বাইরে থাকছেন। এছাড়া এদের মিলিতাও, রদ্রিগো এবং এস্তেভাও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ছিটকে গেছেন। তবে ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড আনচেলত্তি ব্রাজিলের আক্রমণভাগের শক্তির ওপর ভরসা করে একটি অতি-আক্রমণাত্মক ৪-২-৪ ফর্মেশন সাজাতে পারেন, যেখানে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা ও ম্যাথিউস কুনিয়ারা প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ ভাঙার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে, মরক্কো শিবিরও ইনজুরি শান্তিতে নেই; রক্ষণভাগের স্তম্ভ নায়েফ আগুয়ের্ড এবং ফরোয়ার্ড আবদে ইজ্জালজৌলি চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। দলটির নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবি (যিনি ২০১৫ সালে মরক্কো অনূর্ধ্ব-২০ দলকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন) ব্রাজিলের দুর্বল ফুলব্যাক পজিশনের ফায়দা তুলতে আশরাফ হাকিমি ও ব্রাহিম দিয়াজদের গতিকে ব্যবহার করে কাউন্টার-অ্যাটাকিং বা প্রতিআক্রমণ কৌশলে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।