
১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মন্তেভিদেওতে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ দিয়ে যে ফুটবল বিশ্বকাপের মহাকাব্যিক যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ এসে দাঁড়িয়েছে ২০২৬ সালের ৪৮ দলের এক বিশাল মহাযজ্ঞে। দীর্ঘ ৯৬ বছরের এই সুদীর্ঘ ইতিহাসে হোসে নাসাজ্জি থেকে শুরু করে কাতার বিশ্বকাপের লিওনেল মেসি—বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অমরত্ব ঘোষণা করে জিতে নিয়েছেন টুর্নামেন্ট সেরার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি ‘গোল্ডেন বল’। এবারের শতোর্ধ্ব ম্যাচের দীর্ঘ ও কঠিন বিশ্বকাপে কার পায়ে ফুটবে সেই কাঙ্ক্ষিত ‘সোনার বল’, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের চায়ের টেবিলে ঝড় উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এবারের গোল্ডেন বলের দৌড়ে একদিকে যেমন আছেন অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলে ইতিহাস গড়তে যাওয়া লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তিরা; ঠিক তেমনি অন্য প্রান্তে আছেন বর্তমান ফুটবল বিশ্বের ত্রাস কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং স্পেনের বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল।
ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৪২ ম্যাচে ৪১ গোল করা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং পিএসজির ট্রিবল জয়ী তারকা উসমান দেম্বেলে এবার শক্তিশালী ফ্রান্সকে ট্রফির মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গোল্ডেন বলের অন্যতম প্রধান দাবিদার। অন্যদিকে, বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের প্রধান কাণ্ডারি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র নিজেদের সেরা ছন্দে থেকে কাঁপাতে পারেন বিশ্বমঞ্চ। চোট কাটিয়ে ফেরা স্পেনের ১৮ বছর বয়সী তরুণ লামিন ইয়ামালও হতে পারেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। তবে ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, ১৯৫৮ সালের জুস্ত ফন্তেইনের মতো অনেক আনকোরা বা আন্ডারডগ খেলোয়াড়ও আচমকা পাদপ্রদীপের আলোয় এসে ইতিহাস ওলটপালট করে দেন। তাই আর্লিং হলান্ড, হুলিয়ান আলভারেজ কিংবা বুকায়ো সাকাদের মতো তরুণ তুর্কিরা নির্দিষ্ট দিনে জ্বলে উঠে বিশ্বমঞ্চের এই শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট তথা গোল্ডেন বল নিজের করে নেন কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।