
রাশিয়া বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ও কাতার বিশ্বকাপের রানার্সআপ দল ফ্রান্সকে চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও অন্যতম ‘টপ ফেভারিট’ মনে করা হচ্ছে। রক্ষণ, মিডফিল্ড থেকে আক্রমণভাগ—সবখানেই তারকার ছড়াছড়ি থাকলেও কোচ দিদিয়ের দেশমের সাজানো শিবিরে এখন চরম ‘গৃহদাহ’ ও ‘ইগো সমস্যা’ শুরু হয়েছে। মুন্ডো দেপোর্তিভো, টিওয়াইসি স্পোর্টস ও লেকিপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যমগুলোর দাবি, টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর আগেই ফরাসি শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিস। বিশ্বকাপের মতো মহাযজ্ঞের ঠিক আগে নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ শেষেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে যথাক্রমে রিয়াল মাদ্রিদ ও মিউনিখে পাড়ি জমান এমবাপ্পে ও ওলিস। বিশেষ করে এমবাপ্পের তাঁর স্প্যানিশ প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে ক্যাম্প ছাড়া এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সিনিয়র সতীর্থ এনগোলে কান্তের প্রতি ন্যূনতম সৌজন্য না দেখানোর বিষয়টি ভক্তদের মাঝে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাঠের বাইরের এই ‘পিকনিক মুড’ ও খামখেয়ালিপনার পাশাপাশি দলের রণকৌশল ও পজিশন নিয়েও ফরাসি শিবিরে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দলে প্রথাগত 'নাম্বার টেন' বা প্লে-মেকারের অভাব থাকায় পিএসজি তারকা উসমান দেম্বেলেকে মিডফিল্ডার পজিশনে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ দেশম, যা ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে থাকা এই উইঙ্গারকে দারুণ ক্ষুব্ধ করেছে। পছন্দের পজিশন হারিয়ে দেম্বেলে এখন ট্রেনিং ক্যাম্পেই অধিনায়ক এমবাপ্পেকে রক্ষণ ও প্রেসিংয়ে আরও ভূমিকা রাখার প্রকাশ্য ‘উপদেশ’ দিয়েছেন, যা আদতে দুই তারকার পজিশন ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বকেই স্পষ্ট করে। অন্যদিকে, ম্যানচেস্টার সিটির প্রতিভাবান প্লে-মেকার রায়ান সের্কি দেম্বেলের চেয়েও ওই পজিশনে কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও দেম্বেলে-ওলিসদের ভিড়ে পুরো বিশ্বকাপে তাঁকে বেঞ্চ গরম করতে হতে পারে। তারকাদের এই মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ এবং পজিশন নিয়ে অসন্তোষ সামলে বিশ্বমঞ্চে মাঠে নামার আগে সাজানো ফরাসি গৃহে শান্তি ফেরানোই এখন কোচ দিদিয়ের দেশমের সামনে সবচেয়ে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।