
বিগত কয়েক বছরের লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফেরাতে ঐতিহাসিক এক পদক্ষেপ নিয়েছে নতুন সরকার। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ও মৌলিক ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর (Source Tax) উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট পেশ করার সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তটি উপস্থাপন করেন। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য—যেমন ধান, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজ এবং গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ১ শতাংশ থেকে একলাফে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ (০.৫) শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিগত বছরগুলোতে নিত্যপণ্যের বাজারে যে অস্থিতিশীলতা ও ঊর্ধ্বগতি তৈরি হয়েছিল, তার বিপরীতে এটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিরই একটি অংশ; যা বাজারে পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর থেকে আর্থিক চাপ অনেকাংশে লাঘব করবে। বর্তমান মেয়াদের প্রথম এই ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেটে সামগ্রিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। তবে বড় রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার মাঝেও সাধারণ ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় এই ৬০টি অতিপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ছাড়ের সিদ্ধান্তটিই এবারের বাজেটের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখা হচ্ছে।