
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এখন এক চরম ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ ধারণ করেছে। দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে এবার সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে একযোগে সমন্বিত ও বিধ্বংসী পালটা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং দেশটির সেনাবাহিনী। এই হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) অত্যন্ত সুরক্ষিত সদরদপ্তরও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে তেহরানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে ইরানের এই দুই শীর্ষ সামরিক শক্তি এই সাড়া জাগানো অভিযানের ঘোষণা দেয়।
আইআরজিসির দেওয়া তথ্যমতে, তাদের মহাকাশ ও নৌবাহিনী যৌথভাবে দুই দফায় এই বড় ধরনের সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছে। হামলায় বিশেষ করে কুয়েতের আলী আল-সালেম ও আহমাদ আল-জাবের বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিসহ মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) মোট ১৮টি কৌশলগত পয়েন্টকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, বিস্ফোরকবাহী ঝাঁক ঝাঁক ড্রোন ব্যবহার করে বাহরাইনের মার্কিন নৌ-সদরদপ্তরে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর গর্ব ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রাডার ও যোগাযোগ অ্যান্টেনাকে অকেজো করে দেওয়ার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ইউনিট ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘আগ্রাসীর শাস্তি সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত’ তাদের এই প্রতিরোধ লড়াই থামবে না।
মার্কিন বিমান বাহিনীর বোমাবর্ষণ দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় অব্যাহত থাকার মাঝেই ইরান বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেওয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদরদপ্তর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এক জরুরি সামরিক বিজ্ঞপ্তিতে তেহরান জানিয়েছে, "চলতি মুহূর্ত থেকে আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতা ও মার্কিন আগ্রাসনের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো তেলবাহী ট্যাংকার বা বাণিজ্যিক জাহাজ এই জলপথে প্রবেশ করলে তাকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে।" ইরানের এই একটি ঘোষণায় বিশ্বব্যাপী খনিজ তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।