
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এ’ (Group A)-এর দ্বিতীয় হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে এশিয়ার পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের লড়াকু দল চেক প্রজাতন্ত্র (চেকিয়া)। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় (Guadalajara) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের টানা ১১ বারের মতো বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ ২০ বছর পর প্লে-অফের বৈতরণী পার হয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া চেক প্রজাতন্ত্রের জন্য এটি একটি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার মিশন।
বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে মূল পর্বে আসা দক্ষিণ কোরিয়ার ডাগআউটে রয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ হং মিউং-বো (Hong Myung-bo), যিনি এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও দলের দায়িত্বে ছিলেন। ম্যাচকে সামনে রেখে এক সংবাদ সম্মেলনে হং মিউং-বো বলেন, "বিশ্বকাপ শেখার জায়গা নয়, এটি নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ।" ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ১৬ থেকে বিদায় নেওয়া কোরিয়ানরা এবার আরও সামনে এগিয়ে যেতে মরিয়া। ম্যাচটির বিস্তারিত তথ্য ও সম্ভাব্য একাদশ নিচে আলোচনা করা হলো:
দক্ষিণ কোরিয়া: কোরিয়ানদের মূল আক্রমণভাগ বরাবরের মতোই চালিত হবে টটেনহ্যামের কিংবদন্তি এবং বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (LAFC)-তে খেলা তারকা সন হিউং-মিন (Son Heung-min)-এর হাত ধরে। দেশের হয়ে ৫৬ গোল করা সন আর মাত্র ২টি গোল করলেই দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড স্পর্শ করবেন। আক্রমণে সনের সাথে থাকছেন উলভারহ্যাম্পটনের হোয়াং হি-চ্যান (Hwang Hee-chan) এবং পিএসজি (PSG) তারকা লি কাং-ইন (Lee Kang-in)। এ ছাড়া রক্ষণভাগ সামলানোর মূল দায়িত্বে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের শক্তিশালী ডিফেন্ডার কিম মিন-জে (Kim Min-jae)।
চেক প্রজাতন্ত্র: চেক স্কোয়াডের বেশিরভাগ খেলোয়াড় তাদের ঘরোয়া লিগের হলেও, তাদের আক্রমণভাগের মূল ভরসা বায়ার লেভারকুসেনের তারকা স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক (Patrik Schick)। মাঝমাঠে চেলসি ও ওয়েস্ট হ্যামের অভিজ্ঞ টমাস সুচেক (Tomas Soucek) দলের চালিকাশক্তি হিসেবে খেলবেন।
দক্ষিণ কোরিয়া (৪-৪-২ / ৩-৪-২-১): Kim Seung-gyu; Lee Gi-hyuk, Kim Min-jae, Lee Han-beom; Seol Young-woo, Hwang In-beom, Paik Seung-ho, Lee Tae-seok; Hwang Hee-chan, Lee Jae-sung; Son Heung-min.
চেক প্রজাতন্ত্র (৩-৪-২-১): Kovar; Chaloupek, Hranac, Krejci; Coufal, Cerv, Soucek, Jurasek; Provod, Sulc; Schick.
ইতিহাস ও রেকর্ড: বিশ্বকাপে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল। এর আগে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে তিনবার মুখোমুখি হয়েছিল তারা, যেখানে দুই দলই একটি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি একটি ড্র হয়েছে। ২০১৬ সালের সর্বশেষ দেখায় কোরিয়া ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল।
চেক প্রজাতন্ত্রের শক্তির জায়গা: ইউরোপীয় বাছাইপর্বে চেক প্রজাতন্ত্র সেট-পিস থেকে সবচেয়ে বেশি (১১টি) গোল করেছে, যার মধ্যে ৭টি এসেছে কর্নার থেকে। তাদের ফিজিক্যাল ফুটবল ও হেড করার ক্ষমতা কোরিয়ান ডিফেন্সের জন্য বড় পরীক্ষা হবে।
ম্যাচ প্রেডিকশন: অপটা সুপারকম্পিউটারের প্রজেকশন এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতার দিক থেকে দক্ষিণ কোরিয়া বেশ এগিয়ে রয়েছে। চেকরা সেট-পিস থেকে সুযোগ তৈরি করতে পারলেও কোরিয়ার গতিময় আক্রমণভাগের সামনে তাদের রক্ষণভাগ ভেঙে পড়তে পারে। ম্যাচটিতে দক্ষিণ কোরিয়া ২-০ ব্যবধানে জয় পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।