
ভারতের জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী নয়া দিল্লিতে এক হাইভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা তথা লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রভাবশালী সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র এক প্রতিবেদনে এই হেভিওয়েট রাজনৈতিক সাক্ষাতের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) নয়া দিল্লির ঐতিহাসিক ‘১০ নম্বর জনপথ’ বাসভবনে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ সময় মুখোমুখি আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে দুই শিবিরের পক্ষ থেকেই এটিকে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ বলে অভিহিত করা হলেও, ঠিক কী কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে গোপন রাখা হয়েছে। তবে এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রভাব ও সময়কাল ভারতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নয়া দিল্লির অলিন্দে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই শীর্ষ রাজনৈতিক পরিবারের এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ‘ইন্ডিয়া ব্লক’ (INDIA Block)-এর ভবিষ্যৎ কৌশলের ক্ষেত্রে বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে:
মমতা-সনিয়া বৈঠকের পরদিন সাক্ষাৎ: উল্লেখ্য, এই বৈঠকের ঠিক একদিন আগেই দিল্লির রাজনীতির মাঠ গরম করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা করেন।
ইন্ডিয়া জোটের সমন্বয়: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরপর দুই দিনে শীর্ষ নেতৃত্বের এই জোড়া বৈঠক মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক রসায়নকে আরও মজবুত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানানো হলেও, আসন্ন সংসদ অধিবেশনের রণকৌশল এবং ইন্ডিয়া ব্লকের শরিক দলগুলোর মধ্যেকার অভ্যন্তরীণ সমন্বয় জোরদার করতেই এই তৎপরতা।
জাতীয় স্তরে অভিষেকের ভূমিকা: কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেকের এই বৈঠক প্রমাণ করে যে, দিল্লির দরবারে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে তৃণমূল ও কংগ্রেসের পারস্পরিক বোঝাপড়া এক নতুন স্তরে পৌঁছাচ্ছে।
বর্তমানে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে গুঞ্জন, লোকসভায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারকে বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুতে কোণঠাসা করতে যৌথ আন্দোলনের ব্লুপ্রিন্ট সাজাচ্ছে বিরোধীরা। বিশেষ করে মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং রাজ্যগুলোর আর্থিক অধিকার বঞ্চনার মতো বিষয়গুলোতে কংগ্রেস ও তৃণমূল একযোগে সুর চড়াতে চায়।
যদিও আসন রফা বা স্থানীয় কিছু ইস্যুতে অতীতে দুই দলের মধ্যে মনমালিন্য দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমান জাতীয় প্রেক্ষাপটে সোনিয়া-মমতা এবং রাহুল-অভিষেকের এই পর পর দুই বৈঠক সেই বরফ গলানোর ক্ষেত্রে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এই যোগাযোগের সুদূরপ্রসারী ফল ভারতের আগামী দিনের সংসদীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন কড়া নজর রাখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।