
ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা ও কৌতূহলের যেন শেষ নেই। আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে পা রাখতে যাচ্ছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে বয়সের অমোঘ নিয়মে অনেকেই ধারণা করছেন, এটাই হয়ত সিআরসেভেনের শেষ বিশ্বকাপ অভিযান। এই জল্পনার মাঝেই আরেকটি নতুন আলোচনা ডানা মেলেছে—নাইজেরিয়ার বিপক্ষে আসন্ন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটিই কি তবে পর্তুগালের জার্সিতে তার নিজের দেশের মাটিতে (ঘরের মাঠে) শেষ ম্যাচ? তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এমন আবেগঘন প্রশ্ন জাগলেও রোনালদো কিংবা তার কোচের বক্তব্যে এখনই বিদায়ের কোনো সুর বা ইঙ্গিত মেলেনি।
মাঠে ও মাঠের বাইরে নিজের ফিটনেস, কঠোর শৃঙ্খলা এবং পারফরম্যান্সের যে অনন্য নজির ৩৯ পেরিয়েও রোনালদো ধরে রেখেছেন, তাতে ফুটবল বিশ্লেষকদের অনেকেই তাকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ প্রান্তে দেখতে নারাজ। নাইজেরিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে পর্তুগালের প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজও একই ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন। দলের অধিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা করে মার্তিনেজ বলেন, "জাতীয় দলের জন্য রোনালদোর নিবেদন এবং পেশাদারিত্ব তরুণ প্রজন্মের সব খেলোয়াড়ের জন্য অনুকরণীয়। দলের প্রয়োজনে রোনালদো প্রতিদিন নিজেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রস্তুত রাখেন এবং প্রতিটি মুহূর্তে দলকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন।"
পর্তুগাল শিবির এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সিআরসেভেনের বর্তমান অবস্থান ও অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান নিচে তুলে ধরা হলো:
ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমানে মনোযোগ: রোনালদোর অবসর বা দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কোচ মার্তিনেজ জানান, বর্তমানে জাতীয় দলের কোনো খেলোয়াড়ই দীর্ঘমেয়াদি বিষয় নিয়ে ভাবছে না। ফুটবলে ভবিষ্যৎ কখনোই নিশ্চিত নয়—চোট বা পরিস্থিতির পরিবর্তন যেকোনো সময় পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে। দল এখন পুরোপুরি বর্তমানের অনুশীলনে মনোযোগ দিচ্ছে।
রেকর্ড ২২৭ ম্যাচ: পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বিশ্বরেকর্ডটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে, যেখানে দেশের জার্সিতে তার ম্যাচসংখ্যা অলরেডি ২২৭টি।
সর্বোচ্চ ১৪৩ গোল: আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৪৩টি গোল করেছেন এই গোলমেশিন। ২০০৩ সালে অভিষেকের পর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি পর্তুগালের মূল ভরসা।
অবসরের ইঙ্গিত নেই: সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রোনালদো নিজে এখনো জাতীয় দল থেকে অবসরের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দেননি। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়েও তাকে ইউরো বাছাই বা নেশনস কাপে পর্তুগালের হয়ে দেখা যেতে পারে কি না, সেই আশাবাদী আলোচনাও চলছে।
নাইজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ঠিক আগের এই শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে রোনালদোকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে বলে প্রবল ধারণা করা হচ্ছে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ জানিয়েছেন, মেগা টুর্নামেন্টে নামার আগে পুরো স্কোয়াডের শক্তি ও দুর্বলতা পরখ করে নিতে তিনি এই ম্যাচে একাধিক পরিবর্তন আনবেন, যাতে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড় কিছু সময় মাঠে থাকার সুযোগ পান। এমনকি কয়েকজন তরুণ ফুটবলারের জন্য এটি জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচও হতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে রোনালদোর ভবিষ্যৎ নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনার মেঘ জমলেও, পর্তুগাল ড্রেসিংরুমের বার্তা একদম পরিষ্কার—তারা আপাতত সুদূর ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানের প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চায়। আর পর্তুগালের সেই বর্তমানের রাজমুকুট এবং রণকৌশলের মূল কেন্দ্রবিন্দুতেই বরাবরের মতো বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ‘মিস্টার সিআরসেভেন’।