
দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষার্থে যেকোনো উপায়ে আক্রান্ত এলাকায় অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বুধবার (১০ জুন) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এই সভার আয়োজন করে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আমাদের একটাই লক্ষ্য, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে মহামারি মোকাবিলা করা। আমরা একটি রোগ (হাম) মোকাবিলা করে যখনই এগিয়ে যাচ্ছি, তখনই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ, দয়া করে যার যার অবস্থান থেকে চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন এবং ডেঙ্গুর চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রটোকল মেনে চলুন।" তিনি চিকিৎসকদের প্রতি রোগীদের ঢালাওভাবে অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়ার এবং প্লাজমা লিকেজ শুরু হলে প্রতিটি রোগীর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্লাজমা লিকেজের সঙ্গে সঙ্গেই ফ্লুইড (স্যালাইন) দিতে হবে, যাতে রোগী শকে চলে না যায়। চিকিৎসকেরা যেন এই প্রটোকল নিজেদের সহকর্মীদের মাঝে ছড়িয়ে দেন এবং রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা নিশ্চিত করেন। মন্ত্রী আরও ঘোষণা দেন যে, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তনের এক দূরদর্শী রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং আগামী বাজেটে এই খাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানের কথা স্মরণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিপাহী জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছিলেন এবং দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সফলতা কামনা করেন।
তৃণমূলের পোর্টার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতন এবং দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, সব সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন এবং এগুলো দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে সামগ্রিক হেলথ সিস্টেমটাকে নতুনভাবে সাজানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ড্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা দেন ড্যাবের সাবেক মহাসচিব ডা. মো. আব্দুস সালাম এবং অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সংগঠনের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল।