
বুধবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিং জিয়ান বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, "ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে চীন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের উচিত অত্যন্ত শান্ত থাকা এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করা। সংঘাতকে আরও তীব্র করা ও পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানো থেকে সবার বিরত থাকা প্রয়োজন।" একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার জন্য ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষকেই বাস্তব এবং কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।
চীনের এই প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২১টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের এলিট ফোর্স আইআরজিসি। চলমান এই সংঘাতের মূল চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও ক্ষয়ক্ষতি: হরমুজ প্রণালির ঘটনার অজুহাতে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের জাস্ক, সিরিক ও কেশম এলাকায় সরাসরি বিমান হামলা চালায়। এতে সিরিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং বামানি এলাকায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়।
আইআরজিসির বিধ্বংসী পাল্টা আঘাত: মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানের আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। আইআরজিসির দাবি, তারা সেখানে মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও কমান্ড সেন্টার ধ্বংস করেছে। যদিও জর্ডান সেনাবাহিনী ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার দাবি করেছে।
আঞ্চলিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটি এবং বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে বুধবার গভীর রাতে একযোগে ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানি নৌবাহিনী, যা এখনো চলমান রয়েছে। এছাড়া বুশেহর প্রদেশের আকাশে একটি মার্কিন অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোনও ভূপাতিত করেছে ইরান।
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওয়াশিংটনকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, "নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে যাও। পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের ভয়াবহ পরিণতির বহু অধ্যায় রয়েছে।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, ইরানের সার্বভৌম সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো হুমকির চূর্ণবিচূর্ণ জবাব দিতে প্রস্তুত।
বর্তমান এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই মধ্যস্থতাকারী ও সংযমের বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বেইজিং মনে করে, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সরবরাহ চেইনকে বড় সংকটে ফেলবে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে বেইজিংয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও এখন জাতিসংঘের অধীনে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি জোরালো হচ্ছে।