
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে যৌথ আয়োজক মেক্সিকোর মাটিতে। আর উদ্বোধনী গ্রুপ ‘এ’ (Group A)-এর প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকো এবং আফ্রিকার লড়াকু দল দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশ সময় আগামী ১২ জুন (শুক্রবার) রাত ১:০০ টায় মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ‘এস্তাদিও আজতেকা’ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক ১৬ বছর আগে ২০১০ সালের ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল এবং ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। দীর্ঘ দেড় দশক পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি, যা বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মাঝে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি করেছে।
ফিফা র্যাঙ্কিং এবং স্কোয়ার্ডের সার্বিক শক্তিমত্তার বিচারে মেক্সিকো বেশ এগিয়ে থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। দুই দল এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবলে মোট ৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে মেক্সিকো জিতেছে ২টিতে, দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে ১টিতে এবং বাকি ১টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এবারের ম্যাচে মেক্সিকোর সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের হোম অ্যাডভান্টেজ। মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামের লক্ষাধিক চেনা দর্শক ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর ভৌগোলিক উচ্চতা (Altitude) ল্যাটিন আমেরিকার দলটিকে প্রতিপক্ষের তুলনায় শারীরিক ও মানসিকভাবে বাড়তি সুবিধা দেবে। দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের বেলজিয়ান কোচ Hugo Broos-এর অধীনে আফ্রিকান কোয়ালিফায়ার্সে দুর্দান্ত খেলে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে, অন্যদিকে মেক্সিকো স্বাগতিক দেশ হিসেবে সরাসরি খেলছে এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে ভালো ছন্দে রয়েছে।
মেক্সিকোর প্রধান কোচ দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের এক দারুণ কম্বিনেশন নিয়ে মাঠ সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। গোলপোস্টের নিচে অভিজ্ঞ Guillermo Ochoa অথবা Raul Rangel-এর মধ্যে একজনকে দেখা যাবে। রক্ষণভাগে Cesar Montes ও Johan Vasquez জুটির ওপর থাকবে সেন্ট্রাল ডিফেন্সের মূল ভরসা। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে অধিনায়ক Edson Alvarez-এর সাথে দেখা যাবে Luis Chavez এবং Luis Romo-কে। আক্রমণভাগকে সচল রাখতে এবং গোল করার মূল দায়িত্ব থাকবে তারকা স্ট্রাইকার Santiago Gimenez-এর ওপর, যাকে উইং থেকে বল জোগান দেবেন Uriel Antuna এবং Julian Quinones।
মেক্সিকোর সম্ভাব্য লাইনআপ (৪-৩-৩): Raul Rangel/Guillermo Ochoa, Jorge Sanchez, Cesar Montes, Johan Vasquez, Jesus Gallardo, Edson Alvarez, Luis Chavez, Luis Romo, Uriel Antuna, Santiago Gimenez, Julian Quinones.
দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ তাঁর দলকে মূলত একটি সুসংহত ডিফেন্সিভ ব্লক এবং কাউন্টার-অ্যাটাকিং বা প্রতি-আক্রমণ স্টাইলে খেলাবেন। দলের অধিনায়ক ও প্রধান গোলরক্ষক Ronwen Williams-এর ওপর থাকবে গোলপোস্ট রক্ষার গুরুদায়িত্ব। রক্ষণভাগে Khuliso Mudau, Ime Okon, Nkosinathi Sibisi এবং Aubrey Modiba-কে নিয়ে শক্ত প্রাচীর গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে ম্যানেজমেন্টের। মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্ব থাকবে Teboho Mokoena এবং Thalente Mbatha-এর কাঁধে, আর আক্রমণভাগে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙার মূল অস্ত্র হিসেবে খেলবেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল বার্নলির ফরোয়ার্ড Lyle Foster।
দক্ষিণ আফ্রিকার সম্ভাব্য লাইনআপ (৪-২-৩-১): Ronwen Williams, Khuliso Mudau, Ime Okon, Nkosinathi Sibisi, Aubrey Modiba, Teboho Mokoena, Thalente Mbatha, Thapelo Maseko, Themba Zwane, Oswin Appollis, Lyle Foster.
কাগজে-কলমে এবং মাঠের শক্তি বিবেচনায় মেক্সিকো এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারি এবং দর্শকদের আকাশচুম্বী সমর্থন মেক্সিকোকে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার অনুপ্রেরণা দেবে। ল্যাটিন ফুটবলের চেনা গতি ও পাসিং উইং-প্লে দিয়ে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুরু থেকেই চাপে রাখার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা অত্যন্ত ফিজিক্যাল ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। তারা প্রথমার্ধে মেক্সিকোকে গোলবঞ্চিত রেখে তাদের ওপর মানসিক স্নায়ুচাপ তৈরি করার ট্যাকটিক্স বেছে নিতে পারে। তবে স্বাগতিকদের আক্রমণভাগের যে ধার, তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগ পুরো ৯০ মিনিট ধরে রাখা কঠিন হবে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেক্সিকো ২-০ বা ২-১ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে পারে।