
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যখন যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক চরম উত্তেজনার বারুদ, ঠিক তখনই ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্কের দেয়াল ভেঙে রচিত হলো এক অনন্য ও শাশ্বত প্রেমের উপাখ্যান। তেহরানভিত্তিক বিখ্যাত ক্লাব এস্তেগলালের হয়ে খেলতে আসা মার্কিন নারী বাস্কেটবল তারকা চিয়াহ রায়েল-হুইটসিট (Chyah Rael-Whitsitt) ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে এক ইরানি তরুণকে বিয়ে করেছেন। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ (ISNA) এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এই অভিনব ও মধুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।
মিশিগানের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি এই মার্কিন ফরোয়ার্ড গত সোমবার (৮ জুন) এস্তেগলাল নারী বাস্কেটবল দলের মৌসুম শেষের এক জমকালো অফিসিয়াল অনুষ্ঠানে সতীর্থ ও ক্লাব কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে নিজের বিয়ের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানি তরুণের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই তিনি সম্পূর্ণ সজ্ঞানে ও স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ধর্ম পরিবর্তন করেন।
ইরানের ঘরোয়া বাস্কেটবলে নারীদের অংশগ্রহণ ও ক্রীড়া প্রোগ্রাম পুনরুজ্জীবিত করার পর, গত ২০২৫ সালে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এস্তেগলাল তাদের নারী দলের শক্তি বাড়াতে বেশ কয়েকজন হাই-প্রোফাইল বিদেশি বাস্কেটবলারকে চুক্তিবদ্ধ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিয়াহ রায়েল-হুইটসিট ছিলেন সেই বিশেষ তারকাদেরই একজন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ফেরার প্রথম মৌসুমেই চিয়াহর চোখধাঁধানো ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে ইরানি নারী বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপের মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা ঘরে তোলে এস্তেগলাল। ক্লাবটির এই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পেছনে এই মার্কিন ফরোয়ার্ডের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
ইরানের ক্লাব বাস্কেটবলে নাম লেখানোর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত টেক্সাস এ অ্যান্ড এম (Texas A&M) বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই কৃতি খেলোয়াড় আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, কসোভো এবং পুয়ের্তো রিকোর শীর্ষ সারির পেশাদার লিগগুলোতে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লিগ ঘুরে ২০২৫ সালে তিনি এস্তেগলালের সঙ্গে এক দামি চুক্তিতে তেহরানে পাড়ি জমান।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র সংঘাতের এক থমথমে আবহ তৈরি হয়েছে। আর এই যুদ্ধকালীন বৈরী পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন এই অ্যাথলেটের ব্যক্তিগত জীবনের এক সুন্দর ও নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো। ইরানি ক্রীড়া গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাসের আধ্যাত্মিক আবহ এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন পুরোটা সময় জুড়েই এই মার্কিন ক্রীড়াবিদ তেহরানেই অবস্থান করছিলেন, যা তাকে ইসলামের সংস্কৃতি খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করতে এবং জীবনের এই বড় সিদ্ধান্তটি নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।