
ঢাকা: দেশের উচ্চশিক্ষার অনার্স (স্নাতক সম্মান) পর্যায় থেকে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো অতি প্রাচীন ও মৌলিক বিষয়গুলো চিরতরে তুলে দেওয়া হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘মনগড়া গুজব’ বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বা নীতিগত অনুমোদন নীতি-নির্ধারণী কোনো পর্যায়ে নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা নূরুল আফসার দীপু গণমাধ্যমের কাছে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "বাংলা, ইতিহাস ও দর্শন বিভাগ বা বিষয় অনার্স পর্যায় থেকে বাতিলের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট উচ্চশিক্ষা বিষয়ক কোনো কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে যে তথ্য ও স্ক্রিনশট প্রচার করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।"
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ নীতি-নির্ধারণী সূত্র থেকে জানা গেছে, দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি যুগোপযোগী, আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা ও সংস্কারের আলোচনা চলছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের মতো একটি স্বাধীন জাতির জাতিসত্তা ও মনন গঠনের প্রধান মৌলিক বিষয়গুলোতে অনার্স শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকার বা মন্ত্রণালয় এমন কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত কখনোই নেয়নি।
শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত কর্মকর্তা নূরুল আফসার দীপু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই সস্তা গুজবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সরকারের আনুষ্ঠানিক বা অফিশিয়াল সূত্র থেকে সঠিক তথ্য যাচাই করে নেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষের জন্য নতুন শিক্ষাক্রম সংস্কার এবং যুগের চাহিদা অনুযায়ী কয়েকটি আইটি ও কারিগরি বিষয় যুক্ত করার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে সেই দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার পরিকল্পনার কোথাও উচ্চশিক্ষার অনার্স পর্যায়ে বাংলা, ইতিহাস বা দর্শন বিষয় বাতিলের বিন্দুমাত্র কোনো ঘোষণা, রূপরেখা বা দূরবর্তী প্রস্তাবও দেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন।