
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রধান কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক অ্যাপাচি গানশিপ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় এর দুই পাইলট সম্পূর্ণ নিরাপদ ও অক্ষত আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ওয়াশিংটন ডিসিতে ফেরার প্রাক্কালে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত স্বস্তির সঙ্গে বলেন যে হেলিকপ্টারটিতে থাকা দুই ক্রু সদস্যই বর্তমানে ভালো আছেন এবং এই মারাত্মক দুর্ঘটনায় তাদের কেউ আহত হননি। তিনি আরও যোগ করেন যে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে প্রকৃত কারণ কী তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত ও আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
এর আগে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রশাসনের দুইজন নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি শক্তিশালী অ্যাপাচি গানশিপ হেলিকপ্টার সোমবার হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমার কাছাকাছি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই মার্কিন উদ্ধারকারী দল অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে আকাশযানটির দুই ক্রু সদস্যকে অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে ঠিক তখনই এই স্পর্শকাতর অঞ্চলে আমেরিকার সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি ঘটল।
নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে বিধ্বস্ত মার্কিন হেলিকপ্টারটি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কোনো আকস্মিক গুলিতে ভূপাতিত হয়েছিল কি না অথবা কোনো গুরুতর যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আকাশেই বিধ্বস্ত হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা যায়নি। এমনকি বৈরী আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো অজানা বাহ্যিক কারণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা নিয়েও আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মনে নানামুখী ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অত্যন্ত সংবেদনশীল এই সামরিক দুর্ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য জানতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি দিতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইলের বিশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালির মতো বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও সংবেদনশীল জ্বালানি সরবরাহ লাইনে মার্কিন যুদ্ধবিমানের এই ক্র্যাশ বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যেহেতু এই অঞ্চলে মার্কিন ও ইরানি নৌবাহিনীর মধ্যে প্রায়শই মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হয় তাই অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে এই ঘটনার পেছনে কোনো ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সংযোগ থাকতে পারে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে পাইলটদের অক্ষত থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে নিশ্চিত করায় সাময়িকভাবে বড় কোনো সামরিক উত্তেজনার শঙ্কা কেটে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা এবং এখন হোয়াইট হাউসের পরবর্তী বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল।