প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 9, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 8, 2026 ইং
ঢাকার ৪ ও টাঙ্গাইলের ৩ মামলাসহ মোট ৭ মামলায় হাইকোর্টে জামিন আবেদন সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নীতিনির্ধারক, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা মোট সাতটি পৃথক মামলায় উচ্চ আদালত তথা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন পেশ করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উচ্চ আদালতে দাখিল করা এই সাতটি স্পর্শকাতর মামলার মধ্যে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া চারটি এবং আব্দুর রাজ্জাকের নিজস্ব নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইল জেলায় দায়ের করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা রয়েছে। সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এই জামিন আবেদনগুলোর ওপর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আনুষ্ঠানিক শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে দেশের সংশ্লিষ্ট অধস্তন তথা নিম্ন আদালতে দফায় দফায় তাঁর জামিন আবেদন পেশ করা হলেও প্রতিবারই তা নামঞ্জুর করা হয়েছিল, যার ফলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দি রয়েছেন।
আইনি নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর গত ১৪ অক্টোবর রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর ইস্কাটন এলাকার একটি গোপন বাসা থেকে ড. আব্দুর রাজ্জাককে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারের পর রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে চাঞ্চল্যকর ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় তাঁকে প্রধান অন্যতম আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তাঁকে ওই হত্যা মামলায় কয়েক দিনের নিবিড় ও জিজ্ঞাসাবাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়, যেখানে তাঁর মেয়াদে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশি রিমান্ডের সুনির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সাবেক এই মন্ত্রীকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে আটকে রাখার জন্য আদালতে জোর আবেদন জানান। ওই সময় ড. আব্দুর রাজ্জাকের পক্ষে তাঁর নিয়োজিত প্যানেল আইনজীবীরা আদালতে জামিনের সপক্ষে বিভিন্ন আইনি যুক্তি উপস্থাপন করলেও রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর ও আইনজীবীরা এই জামিন আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের দীর্ঘ ও উত্তপ্ত শুনানি শেষে নিম্ন আদালতের বিচারক ড. রাজ্জাকের জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁকে সরাসরি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং সেই থেকে সাবেক এই প্রভাবশালী মন্ত্রী কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের আজকের কার্য তালিকায় ড. আব্দুর রাজ্জাকের এই জামিন আবেদনগুলো শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ড. রাজ্জাকের আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, তাঁর উন্নত বয়স, শারীরিক অসুস্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিষয়টি বিবেচনা করে উচ্চ আদালত হয়তো তাঁকে অন্তত জামিনে মুক্তির আদেশ দিতে পারেন। তবে অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট হত্যা ও সহিংসতার মামলা থাকায় তাঁরা সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত এই জামিনের বিরোধিতা করবেন। দেশের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতার জামিন আবেদনকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ঢাকা ফাইলস ২০২৬