
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পক্ষ থেকে শিশু, নারীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশ ইন) তৎপরতা ঠেকাতে দেশের ২৬ জেলার সীমান্তে ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে. আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা লঙ্ঘন করে এই ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা রুখতে বিজিবি চার পালায় ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁদের সহযোগিতা করছেন. গত ৩ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত চার দিনে বিএসএফের ২১টি পুশ ইনের ঘটনা কঠোরভাবে প্রতিহত করেছে বিজিবি, যার মাধ্যমে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল.
বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ফেনী, মৌলভীবাজার, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ মোট ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত জেলা চিহ্নিত করে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে. ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএসএফের এই পুশ ইন তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে. গত ৯ মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের’ বাংলাদেশে পাঠানোর ঘোষণা দেন, যার পর থেকেই সীমান্তে এই উত্তেজনা তৈরি হয়. বর্তমানে পুশ ইনে ব্যর্থ হয়ে বিএসএফ অনেককে ফেরত নিয়ে গেলেও অধিকাংশ মানুষকে ভারতের সীমানায় খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রাখা হয়েছে.
এমন এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ৮ থেকে ১১ জুন বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে. এই সম্মেলনে অবৈধ পুশ ইন বন্ধের পাশাপাশি সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক নিরস্ত্র বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, নির্যাতন, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধ এবং সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে. মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন. বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে বাংলাদেশ কোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইনের পক্ষে নয় এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে.