
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত. আজ রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করেন. রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন.
চলতি বছরের ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের ওই শিশুটির খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ. ঘটনার পর পরই ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়. গ্রেপ্তারের পর সোহেল ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়. জবানবন্দিতে সে জানায়, নিয়মিত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘটনার দিন পাশের ফ্ল্যাটের ওই শিশুটিকে একা পেয়ে নিজের বাথরুমে নিয়ে ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে ধর্ষণ করে. শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে মৃত ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে. পরে হাত বিচ্ছিন্ন করার সময় শিশুটির মা বাইরে থেকে খোঁজাখুঁজি ও ডাকাডাকি শুরু করলে সে ভয় পেয়ে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়.
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মাত্র ১৮ দিনের মাথায় এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি অনন্য ও দ্রুততম দৃষ্টান্ত. গত ২৪ মে ঘটনার মাত্র ৫ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া. ঈদুল আজহার ছুটি শেষে আদালতের প্রথম কার্যদিবসে গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়. চার্জগঠনের দিন সোহেল অন্য এক ব্যক্তির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেও তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা মেলেনি. এরপর ২ জুন মাত্র এক দিনে মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে শিশুটির বাবা, মা, বোনসহ ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়. পরবর্তী দুই দিনে যথাক্রমে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়. আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামি সোহেল নিজের সন্তানের দোহাই দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন. আদালতগুলোর অবকাশকালীন ছুটি চলা সত্ত্বেও এই স্পর্শকাতর মামলাটির বিচার দ্রুত শেষ করার স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করে আজ এই রায় ঘোষণা করা হলো.