
গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরু হতে আর এক সপ্তাহও বাকি নেই, যা আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে মাঠে গড়াবে। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বৈচিত্র্যময় এই টুর্নামেন্টটি এবার অনেক দিক থেকেই নতুন রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। অতীতের সব আসরের রেকর্ড ভেঙে এবারই প্রথম মোট ৪৮টি দল বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে লড়বে, যেখানে অংশ নিচ্ছেন ১,২৪৮ জন পেশাদার ফুটবলার। শুধু দলের সংখ্যার দিক থেকেই নয়, আয়োজনের দিক থেকেও এটি অনন্য হতে চলেছে। কারণ প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই মেগা টুর্নামেন্টটি আয়োজন করছে, যা আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি দল তাদের সর্বোচ্চ ২৬ জন সেরা খেলোয়াড় নিয়ে চূড়ান্ত দল গঠন করেছে, যা গত ১ জুনের মধ্যে ফিফার কাছে জমা দেওয়ার পর ২ জুন বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।
বিশ্বকাপের এই বিশাল মহাযজ্ঞে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা লিওনেল মেসির নেতৃত্বে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রদ্রিগো দে পল এবং হুলিয়ান আলভারেজদের মতো তারকাদের নিয়ে ডিফেন্স, মিডফিল্ড ও ফরোয়ার্ড লাইনে এক ভারসাম্যপূর্ণ দল ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিল দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, নেইমার জুনিয়র, এন্দ্রিক এবং রাফিনিয়ার মতো বিশ্বমানের ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি আলিসন ও এডারসনের মতো সেরা গোলরক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। ইউরোপের পরাশক্তি ফ্রান্স কিলিয়ান এমবাপে, উসমান দেম্বেলে, এনগোলো কান্তে ও উইলিয়াম সালিবাদের নিয়ে এবং জার্মানি ম্যানুয়েল নয়্যার, জামাল মুসিয়ালা, কাই হ্যাভার্টজ ও অ্যান্টোনিও রুডিগারদের নিয়ে বিশ্বজয়ের লক্ষ্যে শক্তিশালী স্কোয়াড সাজিয়েছে। আরেক ফেবারিট পর্তুগাল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস ও রুবেন ডিয়াজদের ওপর আস্থা রাখছে, আর স্পেন রদ্রি, পেদ্রি ও তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামালদের নিয়ে বিশ্বমঞ্চে কাঁপাতে প্রস্তুত। কেভিন ডি ব্রুইনা ও রোমেলু লুকাকুকে নিয়ে বেলজিয়াম এবং লুকা মদ্রিচ ও গভার্দিওলকে নিয়ে ক্রোয়েশিয়া তাদের অভিজ্ঞ দল ঘোষণা করেছে। শক্তিশালী দল নিয়ে আসছে ইংল্যান্ডও, যেখানে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম এবং বুকায়ো সাকারা প্রধান ভরসা। পাশাপাশি নেদারল্যান্ডস, ইতালি, উরুগুয়ে এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো নিজেদের চেনা কন্ডিশনের সুবিধা নিতে সেরা শক্তির দল মাঠে নামাচ্ছে।
বড় দলগুলোর পাশাপাশি এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যথাক্রমে ওয়াতারু এন্দো এবং সন হিউং মিনের মতো তারকাদের নেতৃত্বে চমক দেখাতে প্রস্তুত। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও সৌদি আরব এবং আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কো ও সেনেগালও তাদের সেরা স্কোয়াড নিয়ে টুর্নামেন্টে বড় অঘটন ঘটানোর জন্য মুখিয়ে আছে। এমনকি কুরাসাও, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো বা উজবেকিস্তানের মতো উদীয়মান ফুটবল পরাশক্তিগুলোও তাদের সেরা সেরা ফুটবলারদের দেশের জার্সিতে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে। আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, বসনিয়া, চেকিয়া, মিশর, ইরান, ইরাক, জর্ডান, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, তিউনিসিয়া, তুরস্ক ও পানামার মতো দলগুলোও নিজ নিজ অঞ্চলের যোগ্যতা প্রমাণ করে দারুণ সব প্রতিভাবান স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে। সব মিলিয়ে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের মাঝে এক চরম উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, কারণ এত বিপুল সংখ্যক দল এবং তারকা ফুটবলারের এমন মিলনমেলা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে আগে কখনো দেখা যায়নি।