
ড্রোন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থতা এবং এর ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক সংকটের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন লাটভিয়ার প্রধানমন্ত্রী এভিকা সিলিনা। জোটসঙ্গী প্রগ্রেসিভস পার্টি তাঁর সরকারের ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেওয়ায় পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারান তিনি। বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে সিলিনা তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমি পদত্যাগ করছি, কিন্তু হাল ছাড়ছি না।”
সম্প্রতি লাটভিয়ার আকাশসীমায় সন্দেহভাজন ড্রোনের অনুপ্রবেশ এবং একটি জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ড্রোন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় সরকার ও সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। এই নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ে কয়েক দিন আগেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যান্ড্রিস স্প্রুডস। প্রধানমন্ত্রী সিলিনা সে সময় জানিয়েছিলেন যে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী দেশের আকাশসীমা নিরাপদ রাখার প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং জনগণের আস্থা হারিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত জোটের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাঁকেও সরে দাঁড়াতে হলো।
২০২৩ সাল থেকে লাটভিয়ার সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করা সিলিনার পদত্যাগ বাল্টিক অঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে প্রায়ই এমন ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ে বাল্টিক দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতি ও সক্ষমতা এখন বড় প্রশ্নের মুখে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক সংকট লাটভিয়ার জাতীয় নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।