
অক্ষয় কুমার এবং প্রিয়দর্শন বলিউডের এই কালজয়ী জুটি যখনই পর্দা ভাগ করেছেন, তখনই তৈরি হয়েছে নতুন ইতিহাস। দীর্ঘ বিরতির পর তাদের নতুন সিনেমা ‘ভুত বাংলো’ সেই জনপ্রিয়তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সিনেমাটি মূলত একটি ফ্যান্টাসি হরর-কমেডি, যেখানে অতিপ্রাকৃত ঘটনার সাথে কমেডির নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখা হয়েছে। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা অর্জুন আচার্য তাঁর পারিবারিক প্রাসাদে গিয়ে ‘বধুসূর’ নামক এক প্রাচীন অভিশাপের মুখোমুখি হন, যা রহস্য ও ভয়ের এক জাল বিছিয়ে দেয়। সিনেমার প্রথমার্ধে হাসি-ঠাট্টার প্রাধান্য থাকলেও দ্বিতীয় ভাগে গল্পের মোড় নাটকীয়ভাবে বদলে যায় এবং দর্শকদের হাড়হিম করা ভৌতিক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করে।
অভিনয়ের দিক থেকে অক্ষয় কুমার আবারও প্রমাণ করেছেন যে, কমেডি টাইমিংয়ে তিনি আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে এই সিনেমায় তাঁর চরিত্রের গম্ভীর রূপটিও সমানভাবে মুগ্ধ করেছে। পরেশ রাওয়াল ও রাজপাল যাদবের সাথে তাঁর রসায়ন পুরনো দিনের নস্টালজিয়া মনে করিয়ে দিলেও, গল্পের রহস্যময় টুইস্টগুলো একে একটি আধুনিক থ্রিলারের রূপ দিয়েছে। তাবু ও ওয়ামিকা গাব্বির শক্তিশালী অভিনয় এবং যিশু সেনগুপ্তের সাবলীল উপস্থিতি সিনেমাটিকে পূর্ণতা দিয়েছে। কারিগরি দিক থেকে উন্নত সিনেমাটোগ্রাফি এবং গা ছমছমে আবহ সঙ্গীত ভৌতিক দৃশ্যগুলোকে আরও বেশি বাস্তবসম্মত ও ভয়ংকর করে তুলেছে।
সামগ্রিকভাবে ‘ভুত বাংলো’ কেবল একটি কমেডি ছবি নয়, এটি একটি টানটান রহস্য-রোমাঞ্চকর জার্নি যা দর্শকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পর্দায় আটকে রাখে। ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের দীর্ঘ ব্যাপ্তি সত্ত্বেও কাহিনী সাজানোর মুন্সিয়ানায় এটি বিরক্তিকর মনে হয় না। যারা সপরিবারে নিখাদ বিনোদন খুঁজছেন, তাদের জন্য এই সিনেমাটি একটি সেরা উপহার। অক্ষয় ও প্রিয়দর্শনের এই নতুন রসায়ন আবারও প্রমাণ করল যে, শক্তিশালী চিত্রনাট্য এবং অভিনয় থাকলে ভৌতিক ঘরানার সিনেমাতেও মন জয় করা সম্ভব। পপকর্ন হাতে প্রেক্ষাগৃহে বসে এই সিনেমাটি দেখা হবে দর্শকদের জন্য এক উপভোগ্য পাওনা।