বিশ্বকাপের মঞ্চে গোল্ডেন বুট জয়ী নির্ধারণে গোলসংখ্যাই একমাত্র মাপকাঠি নয়। বর্তমানে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে উভয়েই ৮টি করে গোল করে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন। গোলসংখ্যা সমান হওয়া সত্ত্বেও এমবাপ্পে কেন মেসির চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, তা নিয়ে ফুটবল প্রেমীদের মধ্যে অনেক কৌতূহল রয়েছে। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যখন দুই বা ততোধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হয়ে যায়, তখন ‘টাইব্রেকার’ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
ফিফার টাইব্রেকার নিয়মটি বেশ সুনির্দিষ্ট। প্রথমেই দেখা হয় ওই খেলোয়াড়দের অ্যাসিস্ট বা গোলে সহায়তার সংখ্যা। যার অ্যাসিস্ট বেশি, তিনি এগিয়ে থাকেন। এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত ৮টি গোলের পাশাপাশি তিনটি অ্যাসিস্ট করেছেন, অর্থাৎ মোট ১১টি গোলে তার সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ৮টি গোলের সঙ্গে অ্যাসিস্ট করেছেন ২টি, অর্থাৎ মোট ১০টি গোলে তার অবদান রয়েছে। অ্যাসিস্টের এই পার্থক্যের কারণেই এমবাপ্পে বর্তমানে গোল্ডেন বুট জেতার দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
যদি অ্যাসিস্টের সংখ্যাও সমান হতো, তবে দ্বিতীয় নিয়মটি কার্যকর হতো। তখন দেখা হতো খেলোয়াড়রা সব মিলিয়ে মাঠে কত মিনিট সময় ব্যয় করেছেন। এই নিয়মে যার খেলার সময় বা মিনিট কম, তিনি পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতেন। অর্থাৎ, কম সময় খেলে বেশি গোল বা অ্যাসিস্ট করা খেলোয়াড়কে অধিক দক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়।
যদিও এই মুহূর্তে এমবাপ্পে এগিয়ে আছেন, তবে বিশ্বকাপ এখনো শেষ হয়নি। মেসি ও এমবাপ্পের পাশাপাশি হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম এবং আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারাও এই পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে মাঠে লড়াই করছেন। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের মাধ্যমেই এই সমীকরণ বদলে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে, তা জানতে আমাদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।
মেসি এবং এমবাপ্পের গোল্ডেন বুটের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন বলে আপনি মনে করেন?
মন্তব্য করুন