ইরান ও ওমানের মধ্যে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের ‘টোল’ বা শুল্ক আরোপ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাসকাটে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মধ্যকার বৈঠকের পর ওমান কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এই কৌশলগত জলপথটি আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং টোল-মুক্ত থাকবে। দুই দেশই আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তাদের পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই সিদ্ধান্তটি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এসেছে। সমঝোতা অনুযায়ী, বর্তমানে ৬০ দিনের একটি ‘টোল-মুক্ত’ সময়কাল চলমান রয়েছে। যদিও ইরান অতীতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিনিময়ে এই রুটে ‘সেবা ফি’ আদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশই বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের অবাধ সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য, বিশেষ করে জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। তাই ইরান ও ওমানের এই যৌথ সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। যদিও ইরান তাদের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখতে সচেষ্ট, তবে বর্তমান সমঝোতা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
ইরান ও ওমানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা নিরসনে একটি ইতিবাচক ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই এখন এই জলপথের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে। জাহাজ কোম্পানি এবং আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থাগুলোও এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।
মন্তব্য করুন