ইউরোপীয় ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন এবং পর্তুগাল আজ রাতে মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে। আইবেরিয়ান উপদ্বীপের এই দুই পরাশক্তির দ্বৈরথ মানেই মাঠের ভেতর বাড়তি উত্তেজনা আর দর্শকদের জন্য এক মহাকাব্যিক ফুটবলীয় সন্ধ্যা। ডালাসের মঞ্চে যখন দুই দল মাঠে নামবে, তখন সবার নজর থাকবে একদিকে স্পেনের রক্ষণাত্মক দেওয়াল আর অন্যদিকে পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অভিজ্ঞতার ওপর।
পরিসংখ্যান এবং সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে স্প্যানিশরা এখন অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন এবার বিশ্বকাপে এক অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা দেখাচ্ছে। দলটি এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি, যা তাদের রক্ষণভাগের ইস্পাতকঠিন শৃঙ্খলার পরিচয় বহন করে। অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা যেভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শেষ ষোলোতে এসেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। স্প্যানিশ মিডফিল্ডের ছন্দ আর মিকেল ওইয়ারসাবালের গোল করার দক্ষতা পর্তুগিজ রক্ষণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অপটা সুপার কম্পিউটারের সিমুলেশনও স্পেনকে জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
অন্যদিকে, রবার্তো মার্তিনেজের পর্তুগাল টিকে আছে নিজেদের অভিজ্ঞতা আর হার না মানা মানসিকতা নিয়ে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে আগের রাউন্ডের ম্যাচে পর্তুগাল যে লড়াই দেখিয়েছে, তা থেকে প্রমাণিত যে নকআউটের চাপ সামলাতে তারা ওস্তাদ। দলের প্রধান সেনাপতি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন মাঠে থাকেন, তখন পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কঠিন। স্পেনের বিপক্ষে রোনালদোর চারটি গোল রয়েছে, যা এই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। নেশনস লিগের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে জয়লাভের স্মৃতি রোনালদোদের মনে আজ বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে।
দুই দলের অতীত রেকর্ড ঘাঁটলে দেখা যায়, বড় আসরে তারা একে অপরের সমকক্ষ। তবে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের পরিসংখ্যান কিছুটা স্পেনের দিকে হেলে থাকলেও নকআউটের এই মঞ্চে অতীত রেকর্ড খুব একটা প্রভাব ফেলে না। এক মুহূর্তের ভুল কিংবা রোনালদোর এক মুহূর্তের জাদু পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই ডালাসে আজ রাতে ফুটবলপ্রেমীরা যে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখতে যাচ্ছেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। স্পেন কি তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে, নাকি রোনালদোর পর্তুগাল আইবেরিয়ান ডার্বির রাজত্ব ধরে রাখবে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা। সব মিলিয়ে আটলান্টার গ্যালারিতে যে আজ বিশ্বমানের ফুটবলের সুর বেজে উঠবে, তা নিশ্চিত।
মন্তব্য করুন