বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে ইতিহাস গড়ল প্যারাগুয়ে। হিউস্টনের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়েকে শুরুতে বড় ধরনের আন্ডারডগ মনে করা হলেও, মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করেছে তারা। গোলরক্ষক অরল্যান্ডো হিলের বীরত্বে পেনাল্টি শুটআউটে জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ে পা রাখল পরবর্তী রাউন্ডে। আর এই ঐতিহাসিক জয়ের সম্মানে প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া ৩০ জুনকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন।
ম্যাচটিতে জার্মানি পুরো সময় বল দখলে রেখে ২১টি শট নিলেও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগ ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। নির্ধারিত সময়ে কাই হাভার্টজের গোলে জার্মানি সমতায় ফিরলেও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো হিল পুরো ম্যাচে অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। ম্যাচের ১২তম মিনিটে জার্মানির একটি গোল ভিএআর (VAR) রিভিউতে বাতিল হওয়ায় ভাগ্যও কিছুটা সহায় ছিল প্যারাগুয়ের।
তবে ম্যাচের আসল রোমাঞ্চ শুরু হয় পেনাল্টি শুটআউটে। অরল্যান্ডো হিল জার্মানির কাই হাভার্টজ এবং নিক ভল্টেমাডের শট ঠেকিয়ে প্যারাগুয়েকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। যদিও মাঝে কিছু নাটকীয়তা ছিল, কিন্তু সাডেন ডেথে হোসে কানালে জয়সূচক গোল করে প্যারাগুয়ের বিজয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের পর প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়া এক ডিক্রির মাধ্যমে দেশবাসীকে ছুটির সুসংবাদ দেন এবং দলের এই অসামান্য অর্জনকে জাতীয় গর্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
প্যারাগুয়ের এই জয় ফুটবল ইতিহাসে এক রূপকথার গল্পের মতো। গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪ গোল খাওয়া যে দলটি নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিল, সেটিই ফুটবলের সৌন্দর্য। এখন প্যারাগুয়ের লক্ষ্য পরবর্তী চ্যালেঞ্জ। শনিবার ফিলাডেলফিয়ায় তারা ফ্রান্স অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে। এখন দেখার বিষয়, জার্মানিকে হারানোর আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্যারাগুয়ে নিজেদের এই জয়যাত্রাকে কতদূর এগিয়ে নিতে পারে।
মন্তব্য করুন