বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হলেও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ নিয়ে ফ্রান্স শিবিরে এখন অন্যরকম উত্তেজনা। শনিবার রাতের এই ম্যাচে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড—উভয় দলই নিজেদের একাদশে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম তার পরিকল্পনার কথা খোলাসা না করলেও তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। ফুটবলপ্রেমীরা তাকিয়ে আছেন, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের এই তারকা কি শেষ ম্যাচে মাঠে নামবেন, নাকি বেঞ্চেই কাটাবেন সময়।
ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম সংবাদ সম্মেলনে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, এমবাপ্পে ম্যাচ খেলার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে কোচের কথাতেই স্পষ্ট যে, তিনি দলে কিছু পরিবর্তন আনতে চলেছেন। দেশমের ভাষ্যমতে, কিছু খেলোয়াড় ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো কারণে দলের বাইরে থাকতে পারেন, কিন্তু কোচ হিসেবে তার মূল লক্ষ্য হলো শেষ ম্যাচে সেরা ফলাফল নিশ্চিত করা। তবে এমবাপ্পের খেলার বিষয়টি ব্যক্তিগত আলোচনার ওপর নির্ভর করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমবাপ্পের এই ম্যাচে অংশগ্রহণ কেবল দলের জন্য নয়, বরং ব্যক্তিগত রেকর্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৮টি গোল করেছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড, যা লিওনেল মেসির সমান। তবে মেসির একটি অতিরিক্ত অ্যাসিস্ট থাকায় গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে বর্তমানে আর্জেন্টাইন অধিনায়কই এগিয়ে আছেন। ফিফার নিয়মানুযায়ী, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করার সুযোগ থাকে, তাই এমবাপ্পে যদি মাঠে নামেন এবং গোল পান, তবে গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়ে নতুন মোড় আসতে পারে।
অন্যদিকে, এমবাপ্পে যদি মাঠে নামতে ব্যর্থ হন কিংবা গোল করতে না পারেন, তবে লিওনেল মেসির গোল্ডেন বুট জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে টিকে থাকতে ফ্রান্সের শেষ ম্যাচে এমবাপ্পের মাঠে নামা অনেকটা অনিবার্য। এখন দেখার বিষয়, কোচ দেশম ব্যক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফ্রান্সের এই বিদায়ী ম্যাচটি তাই এমবাপ্পের জন্য ব্যক্তিগত সাফল্যের শেষ সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন