যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক পালাবদল ঘটে গেল। গত জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার মাত্র দুই মাসের মাথায় এবার হাউস অব কমন্সের সদস্য বা এমপি পদ থেকেও পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অন্যান্য সামাজিক বিষয়ে মনোনিবেশ করার জন্যই তিনি এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার এই সিদ্ধান্তের ফলে লন্ডনের ‘হোলবার্ন অ্যান্ড সেন্ট প্যানক্রাস’ (Holborn and St Pancras) আসনে খুব শীঘ্রই একটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা লেবার পার্টির জন্য একটি বড় দুর্গ রক্ষা করার লড়াই হয়ে দাঁড়াবে।
২০১৫ সাল থেকে এই এলাকার এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা স্টারমার এর আগে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ২০২৯ সালের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত এমপি হিসেবে বহাল থাকবেন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম যখন হাউস অব কমন্সে তার প্রথম অভিষেক ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগে এই চমকপ্রদ ঘোষণাটি আসে। পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে কিয়ার স্টারমার ক্যামডেন নিউ জার্নালকে জানান, তিনি এখন থেকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিভিত্তিক আন্তর্জাতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধের কার্যক্রমে পুরোপুরি সময় দিতে চান। লেবার পার্টির বর্তমান নেতা ও তার উত্তরসূরি অ্যান্ডি বার্নহাম দেশের জন্য তার দীর্ঘদিনের জনসেবা এবং বিশেষ করে ইউক্রেন সংকট ও হিলসবরো আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রশংসা করেছেন।
এদিকে স্টারমারের এই পদত্যাগের ঘোষণাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোক তার ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানালেও দলের চেয়ারম্যান কেভিন হলিন্রেক এটিকে স্টারমারের ‘আরেকটি ইউ-টার্ন’ বলে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, এই আকস্মিক পদত্যাগের ফলে করদাতাদের অর্থে আরেকটি ব্যয়বহুল উপনির্বাচনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশকে। ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে ১১ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়া লেবার পার্টি আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নতুন প্রার্থী চূড়ান্ত করবে বলে জানিয়েছে। তবে লেবারদের এই ঐতিহ্যবাহী আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে থাকতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। অন্য সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যেমন ঋষি সুনাক বা তেরেসা মে পদত্যাগের পরও দীর্ঘদিন এমপি হিসেবে সংসদে থাকলেও, ডেভিড ক্যামেরন ও বরিস জনসনের মতো স্টারমারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই সংসদকে বিদায় জানানোর পথ বেছে নিলেন।
মন্তব্য করুন