ফুটবলের বিশাল ক্যানভাসে কেউ হন গোলদাতা, কেউ ট্রফি জিতে কিংবদন্তি। আবার কেউ মাঠের পুরো ছন্দটাই নিয়ন্ত্রণ করেন নিজের পায়ে। জুড বেলিংহাম ঠিক সেই শেষোক্ত শ্রেণির খেলোয়াড়। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তাকে ঘিরে ইংল্যান্ডের কোটি সমর্থক নতুন ইতিহাসের স্বপ্ন বুনছে। বার্মিংহাম সিটির ছোট মাঠ থেকে শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদের গ্যালারি বেলিংহামের ফুটবলযাত্রা এখন বিশ্বজয়ের নেশায় বিভোর।
একজন আধুনিক ফুটবলারের যে গুণাবলি থাকা প্রয়োজন বল নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস, ট্যাকল এবং গোল করার ক্ষমতা তার সবকিছুই যেন বেলিংহামের মধ্যে সুসংহত। তিনি শুধু মিডফিল্ডার নন, বরং দলের প্রয়োজনে রক্ষণভাগে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান আবার মুহূর্তের মধ্যে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঝড় তোলেন। চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের প্রাণ হয়ে উঠেছেন তিনি। বিশেষ করে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে মেক্সিকোর বিপক্ষে তার জোড়া গোল ছিল পুরো ম্যাচের চিত্রপট পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। কঠিন ম্যাচটিতে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার পেছনে তার অবদান ছিল অবিসংবাদিত।
মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরে বেলিংহামের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানসিকতা। তিনি ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যকেই সবসময় বড় করে দেখেন। বিনয়ী ও পরিশ্রমী এই ফুটবলার সবসময় মনে করেন, প্রতিভা কেবল শুরুতেই সাহায্য করে, তবে কঠোর পরিশ্রমই একজন খেলোয়াড়কে শীর্ষে টিকিয়ে রাখে। তার শান্ত ব্যক্তিত্ব এবং পরিবারের প্রতি গভীর অনুরাগ তাকে সতীর্থ ও ভক্তদের কাছে আরও আপন করে তুলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ইংল্যান্ড এমন একজন মিডফিল্ডারের অপেক্ষায় ছিল, যিনি একই সাথে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ, গোল এবং নেতৃত্ব দিতে পারেন। জুড বেলিংহাম যেন সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন। বিশ্বকাপ এখনও চলমান, তবে যেভাবে তিনি নিজের সামর্থ্য ও সাহসের পরিচয় দিচ্ছেন, তাতে ফুটবলবিশ্ব এখন থেকেই তাকে নিয়ে নতুন নতুন গল্প লিখতে শুরু করেছে। যদি এই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড শিরোপা ঘরে তুলতে পারে, তবে সেই গল্পের কেন্দ্রে নিশ্চিতভাবেই জ্বলজ্বল করবে জুড বেলিংহামের নাম। কারণ, তিনি কেবল ম্যাচ জেতেন না, তিনি একটি জাতির ফুটবলীয় স্বপ্নকেও বাঁচিয়ে রাখেন।
মন্তব্য করুন