২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ১৬-এর আর্জেন্টিনা বনাম মিশরের মধ্যকার ম্যাচটি শেষ হওয়ার পর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে রেফারিং বিতর্কই এখন আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশরের গুরুত্বপূর্ণ একটি গোল বাতিল হওয়ার পর ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশ্বখ্যাত পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনহো।
মরিনহো সরাসরি ক্ষোভ প্রকাশ করে এই গোল বাতিলকে ‘দিনদুপুরে ডাকাতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, যদি সত্যিকার অর্থেই কোনো ফাউল থেকে থাকে, তবে রেফারি বা ভিএআর (VAR) টিমের উচিত ছিল সাথে সাথে খেলা থামানো। গোল হওয়ার পর দীর্ঘ সময় নিয়ে সেটি বাতিল করার প্রক্রিয়াটিকে তিনি অত্যন্ত অপমানজনক ও অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন। মরিনহোর এমন কঠোর মন্তব্যে ফুটবল মহলে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বলে উঠেছে।
শুধু মরিনহো নন, লিভারপুল লিজেন্ড জেমি ক্যারাঘারও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, অন্য কোনো দলের বিপক্ষে রেফারি এমন কঠোর নিয়ম প্রয়োগ করতেন না। প্রিমিয়ার লিগ বা লা লিগার মতো প্রতিযোগিতায় এ ধরনের পরিস্থিতি নিশ্চিত গোল হিসেবেই স্বীকৃত পেত। ক্যারাঘারের এই পর্যবেক্ষণ মিশরের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও এই অবিচারের প্রতিবাদে টুর্নামেন্ট বর্জনের হুমকি দিয়েছেন। আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে জয়ী হলেও মিশরের পক্ষ থেকে আসা ‘ম্যাচ পাতানোর’ অভিযোগ এবং রেফারিদের নিরপেক্ষতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন এখন ফিফার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। মাঠের খেলায় আর্জেন্টিনা কামব্যাক করে চমক দেখালেও, রেফারিংয়ের এই বিতর্কিত অধ্যায়টি ২০২৬ বিশ্বকাপের ইতিহাসে সম্ভবত দীর্ঘকাল সমালোচনার খোরাক হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন