জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির কাজের চাপ এবং ঘুমের অভাব নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তাকাইচি জানান, দীর্ঘদিন পর তিনি টানা পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছেন। সাধারণত তিনি দৈনিক মাত্র শূন্য থেকে তিন ঘণ্টা ঘুমিয়ে অভ্যস্ত। তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই একজন সরকারপ্রধানের স্বাস্থ্য এবং বিচার-বিবেচনার ক্ষমতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার জাপানে 'সমুদ্র দিবস' উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সেদিন বিশ্রাম নেননি। সাধারণ মানুষ যখন সৈকতে সময় কাটাচ্ছিলেন, তখন তিনি জমে থাকা হাজার হাজার ই-মেইলের জবাব দিয়েছেন এবং নীতিমালার নথিপত্র পড়েছেন। শুধু তাই নয়, অবসরের সামান্য সময়ে তিনি নিজের ছিঁড়ে যাওয়া স্কার্ট সেলাই করেছেন এবং অন্তর্বাস ইস্ত্রি করেছেন। নিজেকে একজন বাস্তবধর্মী ও পরিশ্রমী নেতা হিসেবে তুলে ধরার জন্য এই পোস্ট করলেও, তিন কোটির বেশি ভিউ হওয়া এই বার্তাটি উল্টো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
বিরোধী দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর এই রুটিন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। আইনপ্রণেতা তোরু কুনিশিগে সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মানুষের বিচার-বিবেচনার ক্ষমতাকে মাতাল অবস্থার মতো ক্ষতিগ্রস্ত করে, যা জাতীয় সংকটের সময় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আরেক সমালোচক হিরোইউকি কোনিশি তার পদত্যাগ দাবি করে বলেছেন, একজন প্রধানমন্ত্রীর কাজ হলো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত দেওয়া, প্রতিটি নথির খুঁটিনাটি পড়া নয়। রক্ষণশীল নেতা ইউইচিরো তামাকিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে বিশ্রাম নেওয়াও কাজেরই একটি অংশ।
তবে তাকাইচির সমর্থক ও বিশ্লেষকরা বিষয়টি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। টোকিওর ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের অধ্যাপক ইয়োকো ইওয়ামার মতে, আগের অনেক প্রধানমন্ত্রী ঘরের কাজের জন্য তাদের স্ত্রীর ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচিকে রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি গৃহস্থালির কাজও নিজেকেই সামলাতে হচ্ছে। সমাজ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর জন্য এমন একটি সহায়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত যেখানে তাকে গৃহস্থালির কাজ নিয়ে ভাবতে না হয়।
জাপান এমনিতেই দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং 'কারোশি' বা অতিরিক্ত কাজের চাপে মৃত্যুর মতো ঘটনার জন্য পরিচিত। নব্বইয়ের দশক থেকে রাজনীতিতে আসা তাকাইচি নিজের কঠোর কর্মনিষ্ঠাকেই তার মূল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশটিতে ইয়েনের মূল্যের ঐতিহাসিক পতনসহ নানা অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি আগামী দিনের সংসদীয় অধিবেশন নিয়ে তিনি বর্তমানে প্রচণ্ড চাপে রয়েছেন। এসবের মাঝেই তার এই অক্লান্ত পরিশ্রমী ভাবমূর্তি একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, তেমনি একজন রাষ্ট্রনেতার সুস্থতা নিয়ে গভীর উদ্বেগেরও জন্ম দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন