দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিউফোর্ট (শাকিফ) দুর্গ থেকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বা সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইসরাইল [cite: দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট দুর্গ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা ইসরাইলের নেই এমনটাই মন্তব্য করেছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ।]। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এই দুর্গকে ইসরাইলের উত্তর সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন [cite: দক্ষিণ লেবাননের বিউফোর্ট দুর্গ থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা ইসরাইলের নেই এমনটাই মন্তব্য করেছে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ। তিনি এই দুর্গকে ইসরাইলের উত্তর সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।]। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও দেশের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনী ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ অবস্থান করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন [cite: এদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ লেবাননে সেনাবাহিনী ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন’ অবস্থান করবে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।]।
এক বিশেষ বিবৃতিতে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বিউফোর্ট দুর্গ নিয়ে তাঁদের অনমনীয় অবস্থানের কথা জানান। পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই দুর্গের কৌশলগত অবস্থানকে ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন:
বিউফোর্ট দুর্গ থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা ইসরাইলের নেই এবং এটি লেবাননে ইসরাইলি নিরাপত্তা অঞ্চলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ [cite: এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, ‘ইসরাইলের বিউফোর্ট (শাকিফ) দুর্গ থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। এটি লেবাননে আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’]।
পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত এই কৌশলগত অবস্থানটি উত্তর ইসরাইলের বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
উত্তর ফ্রন্টে মোতায়েন থাকা ইসরাইলি বাহিনীর প্রতিরক্ষার জন্য এই অবস্থানটি অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (২১ জুন) দেওয়া এক বক্তব্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ লেবাননে সেনা মোতায়েন রাখার বিষয়ে তাঁর সরকারের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা এবং ইসরাইলের সব নাগরিকের সুরক্ষার জন্য দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে যতদিন প্রয়োজন, ইসরাইলি সেনারা ততদিন অবস্থান করবে এবং এই প্রতিশ্রুতি থেকে তাদের কেউ সরাতে পারবে না [cite: রোব বার (২১ জুন) তিনি বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের প্রিয় বাসিন্দা এবং ইসরাইলের সব নাগরিকের নিরাপত্তার জন্য আমরা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চলে যতদিন প্রয়োজন ততদিন থাকব। এই প্রতিশ্রুতি থেকে আমাদের কিছুই সরাতে পারবে না।’]। একই সঙ্গে তিনি ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেই বিষয়েও নিজের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর আগে গত শুক্রবার ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে এই চুক্তির ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই শনিবার দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় লেবাননে অন্তত ২০ জন নাগরিক নিহত হন।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিজবুল্লাহর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ইসরাইল যদি আন্তরিকভাবে যুদ্ধবিরতি মেনে চলে, তবে তাদের পক্ষ থেকেও তা মেনে চলা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দক্ষিণ লেবাননের মাটিতে ইসরাইলি বাহিনীর অবাধ চলাচলের কোনো ধরনের অধিকার নেই। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে নতুন করে আর কোনো হামলা চালায়নি [cite: তিনি জানান, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর থেকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালায়নি।]।
মন্তব্য করুন