ইরানের খাটাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান তার ‘কঠোর ও ধ্বংসাত্মক’ জবাব দিতে বিন্দুমাত্র পিছপা হবে না। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেনারেল আবদুল্লাহি যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট শয়তান’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতক শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করে ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে যেকোনো আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে ঘোষণা করেন।
এই হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্য দিয়ে। গত ১৭ জুলাই সংঘটিত ওই হামলায় অন্তত দুইজন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। হামলার সময় চারজন মার্কিন সেনা আহত হন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এই প্রাণঘাতী হামলার জবাব দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা বিমান হামলা শুরু করেছে। এই নিয়ে টানা আট দিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা চলছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করেই এই সংঘাতের সূত্রপাত। মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের নতুন এই বিমান হামলাগুলো মূলত ইরানের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে ইরানি কমান্ডার আলী আবদুল্লাহি জানিয়েছেন, সামরিক সংঘাতের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে শত্রু বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই সফল হবে না। ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি হিসেবে অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর এবং বর্তমান উত্তেজনা যেকোনো আগের চেয়ে বড় ধরনের মূল্য দিতে বাধ্য করবে বলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন।