|
দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Files
প্রকাশ : Oct 4, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

আপনার বাসা ভূমিকম্প সহনশীল কি না বুঝবেন যেভাবে

ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নিজের ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে বড় ভরসা হলো নিজের বাসস্থানটি কতটা শক্তিশালী ও সহনশীল। হঠাৎ করে বড় ধরনের ভূকম্পন শুরু হলে ভবনটি তা টিকিয়ে রাখতে পারবে কি না, তা খালি চোখে বা কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণের মাধ্যমে অনেকাংশেই অনুমান করা সম্ভব। আপনার বাসা বা ফ্ল্যাটটি ভূমিকম্প সহনশীল কি না, তা বোঝার জন্য কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে পারেন।

সবার আগে ভবনের কাঠামোগত নকশা বা স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং পিলারের বিন্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি মানসম্মত ভূমিকম্প সহনশীল ভবনে পর্যাপ্ত সংখ্যক শক্তিশালী কলাম বা পিলার এবং বিম থাকে, যা পুরো কাঠামোর ভার সুষমভাবে বহন করে। ভবনের তলায় বা নিচতলায় যদি অতিরিক্ত খোলামেলা জায়গা থাকে এবং ওপরের তলাগুলো বেশ ভারী হয়, তবে তা ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। প্রকৌশল ভাষায় একে ‘সফট স্টোরি’ বলা হয়, যা সাধারণ বহুতল পার্কিং বা শোরুমের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।

দেয়ালে ফাটল ধরার ধরন দেখেও ভবনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যদি ঘরের সাধারণ প্লাস্টারে হালকা ফাটল থাকে, তবে তা কাঠামোগত ত্রুটির চেয়ে বয়সের ভার বা আর্দ্রতার কারণে হতে পারে। কিন্তু যদি ভবনের মূল বিম, কলাম কিংবা লোড-বেয়ারিং দেওয়ালে আড়াআড়ি বা ইংরেজি এক্স (X) আকৃতির গভীর ফাটল দেখা দেয়, তবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক সংকেত। এই ধরনের ফাটল ইঙ্গিত দেয় যে ভবনটি মাটির কম্পন বা ওজনের চাপ সঠিকভাবে সহ্য করতে পারছে না।

ভবন নির্মাণের মান এবং রাজমিস্ত্রি বা ঠিকাদারের কাজের স্বচ্ছতাও দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব নির্ধারণ করে। যদি ভবনে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত ভালো মানের রড, সিমেন্ট ও মানসম্মত খোয়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে তা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়। পুরোনো ভবনের ক্ষেত্রে ছাদ বা পিলারের আস্তরণ খসে পড়ে যদি ভেতরের রড বেরিয়ে যায় এবং তাতে মরিচা ধরে পচে যেতে দেখা যায়, তবে বুঝতে হবে ভবনটির ভেতরের শক্তি মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

মাটির ধরন ও ভিত্তির স্থায়িত্বও ভূমিকম্পের ঝুঁকি নির্ধারণের একটি বড় শর্ত। নরম মাটি বা পলিমাটির ওপর গড়া edificios বা জলাভূমি কিংবা পুকুর ভরাট করে তৈরি জমির ওপর নির্মিত ভবনগুলোর ক্ষেত্রে গভীর পাইলিং বা শক্তিশালী ফাউন্ডেশন না থাকলে কম্পনের সময় ভবন হেলে পড়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া ভবন নির্মাণের সময় রাজউক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং প্রকৌশলীর ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

যদি আপনার মনে কোনো ধরনের সন্দেহ থাকে যে আপনার বাসাটি ভূমিকম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তবে নিজে ঝুঁকি না নিয়ে পেশাদার স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার বা স্থপতি ডেকে ভবনটির পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা বা অডিট করিয়ে নেওয়া উচিত। সামান্য সতর্কতা এবং সঠিক পদক্ষেপ বড় ধরনের বিপদ থেকে জীবন ও সম্পত্তি রক্ষা করতে পারে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে ইসরাইলি সেটেলারদের হানা

1

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার দেখানো হ

2

ইরানের ‘হত্যার তালিকায়’ শীর্ষে আমি: তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দ

3

আকিজ বশির গ্রুপে চাকরি

4

দিল্লি বিমানবন্দরে সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা আটক

5

নাইজেরিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ৩২ যাত্রী ও ক্রু নিহত

6

এইচএসসি পরীক্ষা: প্রতিটি কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দে

7

ইরান সমঝোতায় মরিয়া: দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্

8

ছাগল বাঁচাতে গিয়ে বাবা-ছেলেসহ ৪ জনের মৃত্যু

9

ঢাকাসহ ৮ বিভাগেই টানা ৫ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস: বাড়বে রাতের ত

10

লালমনিরহাটে ট্রাকচাপায় ২ নারীর মৃত্যু

11

তিমুর-লেস্তের বিপক্ষে আরও ভালো পারফরম্যান্সের লক্ষ্য নিয়ে মা

12

হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৮ জনের মৃত্যু

13

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শ

14

হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেলবাহী জাহাজে ইরানের হামলা ও উত্তেজনার

15

মার্কিন হামলায় ইরানের ৭ সেনা ও ৩০ বেসামরিক নাগরিক নিহত

16

দেশের বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেটের ভরি ছাড়াল ২

17

২৪ আগস্ট ২০২৬: দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কত?

18

হরমুজ প্রণালি কি মার্কিন ভূখণ্ড হতে পারে? ট্রাম্পের দাবির পে

19

অতিরিক্ত হল ফি কমানোর দাবিতে উত্তাল সরকারি তিতুমীর কলেজ ক্যা

20